আমি সংবিধানের কিছু কিছু ধারা মানবো, আর কিছু কিছু ধারা মানবো না। আমি কখনও কখনও সাংবিধানিক, কখনও কখনও অসাংবিধানিক।”
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নামাজের বিরতির পরে মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় পার্থের বক্তব্যের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “মাননীয় স্পীকার, কিছুক্ষণ আগে আমাদের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন তিনি যারা সংবিধান ছুড়ে ফেলতে চায় তাদেরকে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে তুলনা করলেন। তখন ট্রেজারি বেঞ্চে সম্মানিত মন্ত্রীরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন দিলেন। মাননীয় স্পীকার, গণতন্ত্রের জন্য যিনি আপসহীন লড়াই করে গিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া...তিনি বলেছিলেন, যেদিন জনতার সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, যেদিন এই পার্লামেন্ট জনতার কাছে যাবে, সেদিন এই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলা হবে। ট্রেজারি বেঞ্চে যারা...তারা দীর্ঘদিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। আজ তারা সংবিধান পরিবর্তনের প্রশ্নকে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে এক করে দেখার মাধ্যমে কী বেগম জিয়াকেই পরোক্ষভাবে অসম্মান করছেন না—তা তাদের ভেবে দেখা উচিত।”
তিনি বলেন, “উনি (পার্থ) বলেছেন, ৭২ এর সংবিধানের কিছু কিছু বিষয়কে উনারা সম্মান দিয়েছেন। তার মানে কিছু কিছু বিষয়কে উনারা সম্মান দেননি। তার মানে, এই অভ্যুত্থানের পরে সংবিধানের কিছু অংশ উনারা মেনেছেন, কিছু অংশ উনারা মানেননি। উনারা কেবল ওই অংশই মেনেছেন যেটা উনাদের পক্ষে গিয়েছে। যেই অংশটা উনাদের বিপক্ষে গিয়েছে সেটা উনারা মানেননি।”
এই সংসদ সদস্য বলেন, “৬ আগস্ট যখন ছাত্ররা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আর এক মুহূর্ত বেগম জিয়াকে কারাগারে থাকতে দিবো না। রাষ্ট্রপতির আদেশের মধ্য দিয়ে বেগম জিয়াকে সেদিনই সেখান থেকে বের করে আনা হয়েছিল। যদি এই সংবিধানকে বাইবেল ধরে নেই, যদি এই সংবিধানকে গসপেল ধরে নেই, তাহলে এই গসপেলের পুরোহিত অনুযায়ী যেভাবে ভ্যাটিকান সিটি চলে, সেটা যদি আমরা ধরে নেই, তাহলে মাননীয় স্পিকার সেদিন বেগম জিয়া জেল থেকে বের হতে পারেন না। সেদিন বেগম জিয়া বের হয়েছিল, অভ্যুত্থানের জন রায়ের ভিত্তিতে।”