• জাতীয়
  • পাসপোর্ট পেতে আসিফের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেমের দৌড়ঝাঁপ

পাসপোর্ট পেতে আসিফের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেমের দৌড়ঝাঁপ

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
পাসপোর্ট পেতে আসিফের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেমের দৌড়ঝাঁপ

সাবেক স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা থাকা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন সাধারণ পাসপোর্ট পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন।

সুপার এক্সেপ্রেসে (অতি জরুরি) আবেদন করলেও গত ১৫ দিনেও পাসপোর্ট না হওয়ায় তিনি নানাভাবে তদবিরও করছেন। বিতর্কিত ব্যক্তি ও বর্তমানে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাকে পাসপোর্ট দেওয়া হবে কিনা তার জন্য মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাসপোর্ট অধিদফতর।

গত ১৫ মার্চ তিনি আঁগারগাও পাসপোর্ট অফিসে সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেন। পাসপোর্ট অধিদফতরের উর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মোয়াজ্জেম গত ১৫ মার্চ আগারগাঁও ঢাকা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে আসেন। তিনি তার সরকারি পাসপোর্টটি জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেন। আবেদনটি ছিল সুপার এক্সপ্রেসের— যা তিন কর্মদিবসের মধ্যে পাওয়ার কথা। কিন্তু এই পাসপোর্টটি গত ১৫ দিনেও তিনি পাননি। এরই মধ্যে গতকাল ৩০ মার্চ আদালত থেকে তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আসে।

পাসপোর্ট অফিসের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, “আবেদনের পর তার বিরুদ্ধে নানা বিতর্কিত বিষয়, দুর্নীতির অনুসন্ধান চলমান থাকায় দ্রুত দেশত্যাগ করতে পারেন এমন আশঙ্কা সামনে চলে আসে। একারণে পাসপোর্ট অধিদফতরের কর্মকর্তারা তার পাসপোর্ট ইস্যু নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। এছাড়া দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা আসার আগেই বিভিন্নভাবে তিনি পাসপোর্ট পেতে তদবির করতে থাকেন। এতে করেও কর্মকর্তারা নানা সন্দেহ প্রকাশ করে। সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ সোমবার আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।”

ওই কর্মকর্তা বলেন, “যেহেতু আদালত থেকে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এমন অবস্থায় তাকে পাসপোর্ট সরবরাহ করা হবে কিনা— তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপরে নির্ভর করছে তাকে পাসপোর্ট দেওয়া হবে কিনা।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পাসপোর্ট থাকলে তিনি যদি কোন দেশের ভিসা পেয়ে যান, তাহলে গোপনীয়ভাবে দেশত্যাগের আশঙ্কা থেকে যায়। এছাড়া তিনি গোপনীয়ভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়েও ইউরোপের কোনও এক দেশের ভিসা নিয়েও চলে যেতে পারেন। একারণে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চাচ্ছে অধিদফতর।”

এদিকে এমন অবস্থায় মোয়াজ্জেমের পাসপোর্ট পাওয়া এক প্রকার অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। একারণে সে তার দিক থেকে নানা ব্যক্তি দিয়ে পাসপোর্ট পেতে অধিদফতরের নানা পদের কর্মকর্তার নিকট তদবির করছেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার (৩০ মার্চ) সাবেক স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন আদালত। তার বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।

ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়। তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন সিআইডির উপপরিদর্শক মো. আবদুল হান্নান।

আবেদনে বলা হয়েছে, “মোয়াজ্জেম হোসেন দায়িত্বে থাকাকালীন তদবির–বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিকানা অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থ তিনি অবৈধ উপায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন। তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি যেকোনও সময় বিদেশ যেতে পারেন।” এই কারণে অনুসন্ধান কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোয়াজ্জেম হোসেনের বিদেশযাত্রা রোধ করা বিশেষ প্রয়োজন বলে আবেদনে জানানো হয়।

Tags: আসিফ পাসপোর্ট এপিএস মোয়াজ্জেম দৌড়ঝাঁপ