মঙ্গলবার সকাল থেকে জ্বালানি তেল সংকটে রাঙামাটির সঙ্গে লংগদু ও বাঘাইছড়ি নৌপথের যাত্রীবাহী স্পিডবোট বন্ধ হয়ে গেছে।
জেলায় দ্রুততম যাত্রীসেবা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে স্পিডবোট সার্ভিসটি। ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে অকটেন না পাওয়ায় এই যাত্রীসেবা বন্ধের কথা জানান চালকরা।
এদিকে, শহরের চারটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে মাত্র দুটিতে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। লঞ্চ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ডিজেল সংকটে কাপ্তাই হ্রদে নৌযান চলাচল বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ১০টি রুটে লঞ্চ চলাচল করে আনুমানিক ৩০টি লঞ্চ। এতে দৈনিক ১২০০-১৫০০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়।’
ইঞ্জিনচালিত নৌকায় মৌসুমি পণ্য পরিবহনকারী নাছির উদ্দির বলেন, ‘আগে বিভিন্ন গ্রাম থেকে দৈনিক ১৫-২০ বোট মৌসুমি ফল নিয়ে শহরের সমতাঘাট, ট্রাক টার্মিনাল ঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে পণ্য পরিবহন করা হতো। হাটবারে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেতো। বর্তমানে তেলের অভাবে অনেকেই মৌসুমি ফল যেমন– তরমুজ, আনারস, কলাসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহন করতে পারছে না। এতে যেমন কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি আমরাও পণ্য পরিবহন করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।’
স্পিডবোট ঘাটের লাইনম্যান মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘আগে রাঙামাটি থেকে প্রতিদিন ১৫-২০টি স্পিডবোট বিভিন্ন নৌপথে চলাচল করতো। কিন্তু বর্তমানে তেলের সংকটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। পাম্পগুলো থেকে যে পরিমাণ তেল দেয় তা স্পিডবোট চলাচলের জন্য যথেষ্ট নয়।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা রাঙামাটি জোনের চেয়ারম্যান মঈনুদ্দীন সেলিম বলেন, ‘তেল যা মজুত আছে, তা দিয়ে আজ চলাচল করা যাবে। যদি জ্বালানি না পাই তাহলে বুধবার থেকে উপজেলাগুলোর সঙ্গে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কোথাও ডিজেল পাচ্ছি না। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে বিষয়টি নিয়ে। সমাধানের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, তেলের অভাবে লঞ্চ বন্ধ হবে না। স্পিডবোটে বেশি জ্বালানি প্রয়োজন, তাই তাদেরও রেশনিং করে দেওয়া হচ্ছে।’