জানা যায়, সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদ করাতিটোলায় ৩৮ বছর বয়সী গৃহবধূ তাসলিমা আক্তার রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হন। তার স্বামী ও দেবর নাদিম তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) নিয়ে আসেন, যেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে স্বামী ও দেবর সাংবাদিকদের জানান, করাতিটোলা রেলগেইট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে তাসলিমা আহত হয়ে মারা যান।
কিন্তু পুলিশি তদন্তে দেখা যায়, তারা যে তথ্য দিয়েছেন, তা সত্য নয়। ময়নাতদন্তে নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক জখম পাওয়া যায়। এতে নিশ্চিত হয়, এটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হুসাইন মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠিয়েছেন।
থানার পরিদর্শক (অপারেশন) খালেদ জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে করাতিটোলা স্বামীর বাসায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি তাসলিমার কাছ থেকে টাকা পেতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল। ঘটনার সময় বাসায় অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন না। সন্দেহ করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি তাসলিমাকে হত্যা করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শুধু এই ব্যক্তি নয়, অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্তে প্রকাশ পাবে। এছাড়া, কেন মৃতাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা বলে দেখানো হয়েছিল, তাও তদন্ত করা হবে।
নিহত তাসলিমা আক্তার ছিলেন বংশাল মহৎ টুলীর জয়নাল মাদবরের মেয়ে এবং রশিদ আহামেদ বাপ্পির স্ত্রী। সন্তানকে নিয়ে তিনি ৭৩/১ দক্ষিণ সায়েদাবাদে বসবাস করতেন।