বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা (Primary Healthcare) চালু করবে। বিনা চিকিৎসায় কোনো মানুষ মারা যাবে না—এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একইসঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দিলেন, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে বিএনপি।
রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অডিটরিয়ামে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই জনমুখী অঙ্গীকারগুলো তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্য খাতে ‘বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু নয়’: বিএনপির ৩১ দফার মূল বার্তা
ড্যাব নেতাদের উদ্দেশে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফায় স্বাস্থ্য খাত নিয়ে যে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে, তা দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া অত্যাবশ্যক। তিনি এই পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান, প্রত্যেকে যেন এই বার্তা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ফেসবুকে পোস্ট করেন। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানাতে হবে—বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সারা দেশের মানুষের জন্য বিনা মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে। এ লক্ষ্যে বিএনপি এখন থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে হোমওয়ার্ক (Home Work) শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, "দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা এখন আকাশচুম্বী। তাই ডে ওয়ান (Day One) থেকেই আমাদের পারফর্ম করতে হবে। বিএনপি সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেমন, আমরা যে ১ কোটি মানুষকে কীভাবে চাকরি দেব, তার হোমওয়ার্ক করেই সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।"
১ কোটি কর্মসংস্থান: ‘ডে ওয়ান’ থেকে পারফর্ম করতে বিএনপির ‘হোমওয়ার্ক’
বিএনপির এই প্রবীণ নেতা আরও বলেন, দেশের মৌলিক সংস্কার সংক্রান্ত যত প্রতিশ্রুতি, তার সবই ৩১ দফায় লিপিবদ্ধ আছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করা। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে ১ কোটি কর্মসংস্থান (Job Creation) সৃষ্টির ব্যবস্থা করবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সেক্টর (Sector) চিহ্নিত করে কাজ শুরু হয়েছে। "ওই ব্যক্তির আর্থিক সচ্ছলতার জন্য বিএনপি কি করবে, সেটা তাকে জানাতে হবে,"—বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন আমীর খসরু।
তিনি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সকল নেতাকর্মীকে এই ৩১ দফা সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। মানুষকে বোঝাতে হবে, এই সংস্কার কর্মসূচিতে ওই নির্দিষ্ট মানুষটির জন্য কী আছে। আজকের সচেতন নাগরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা—এসব নিয়েই ভীষণ সচেতন। মানুষের এসব চাহিদাকে মাথায় রেখেই বিএনপি আগামী রাষ্ট্র বিনির্মাণের ৩১ দফা ঘোষণা করেছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘নবযুগের সূচনা’: সহনশীল রাজনীতির বার্তা
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগের সেই চিরাচরিত রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণা আর নেই। রাজনীতি বদলেছে, মানুষ বদলেছে। আর তাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির রাজনৈতিক মন্ত্র এখন ‘নবযুগের সূচনা’। দেশের সামগ্রিক ও মৌলিক পরিবর্তনই এখন বিএনপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমাদের সহনশীল হতে হবে। গণতন্ত্র থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দেশকে নিয়ে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ চিন্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে তারেক রহমানের নীতির পার্থক্য রয়েছে; তিনি কোনো সাংঘর্ষিক রাজনীতিতে যেতে চান না। বিএনপি কোনো দাবি নিয়ে নয়, বরং সহনশীল রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে সামনে এগোচ্ছে। দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই সহনশীল রাজনীতি অপরিহার্য।
আলোচনা সভায় ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিলের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক ডা. বজলুল গনি, ড্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. খালেকুজ্জামান দিপু, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম, ডা. সৈয়দা তাজনিন ওয়ারিশ সিমকী, ডা. মওদুদুল হক অপু, ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, ডা. আদনান হাসান মাসুদ, আলোচনা সভা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন এবং সদস্য সচিব ডা. শেখ ফরহাদ প্রমুখ।