আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও প্রকৃতির রোষানলে সূর্যোদয়ের দেশ। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) উত্তর জাপানের উপকূল কেঁপে উঠল ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে। কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, সঙ্গে সঙ্গেই জারি করা হয়েছে Tsunami Alert। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (JMA) জানিয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে আছড়ে পড়তে পারে বিধ্বংসী ঢেউ, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে।
সুনামি সতর্কতা ও জলোচ্ছ্বাসের ভয়
জাপানের আবহাওয়া দপ্তর বা জেএমএ শুরুতে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.৫ জানালেও, পরবর্তীতে Seismic Data বিশ্লেষণ করে তা সংশোধন করে ৬.৭ Magnitude নিশ্চিত করে। এই শক্তিশালী কম্পনের পরপরই উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলজুড়ে সর্বোচ্চ এক মিটার (তিন ফুট) উচ্চতার সুনামি ঢেউ আঘাত হানার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলবর্তী মানুষকে সমুদ্রতীর থেকে দূরে এবং উঁচু নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাইরেনের শব্দে শুক্রবারের সকালটি হয়ে ওঠে বিভীষিকাময়।
পরপর ধাক্কা: বিপর্যস্ত জনজীবন
জাপানের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য চলতি সপ্তাহটি যেন দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র কয়েক দিন আগেই এই একই অঞ্চলে ৭.৫ মাত্রার এক প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যার জেরে অন্তত ৫০ জন আহত হন এবং বেশ কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই ধকল সামলে ওঠার আগেই শুক্রবারের এই নতুন কম্পন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। উদ্ধারকারী দল এবং জরুরি পরিষেবা বিভাগগুলোকে ইতিমধ্যেই High Alert-এ রাখা হয়েছে।
‘রিং অব ফায়ার’ ও অতীতের দগদগে স্মৃতি
ভৌগোলিকভাবে জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ (Ring of Fire) অবস্থিত হওয়ায় দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। মাটির গভীরের Tectonic Plate-এর নড়াচড়া এখানে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। তবে ঘন ঘন বড় মাত্রার এই কম্পন জাপানিদের মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১১ সালের সেই ভয়াবহ তোহোকু ট্র্যাজেডি। ৯.১ মাত্রার সেই ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন বা নিখোঁজ হয়েছিলেন। ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক কেন্দ্রের সেই Nuclear Disaster-এর ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে দেশটি। শুক্রবারের ভূমিকম্পে আবারও সেই পুরোনো শঙ্কা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।