বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বিএনপির অবস্থান
বিএনপি এই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের 'বিদ্রোহী' হিসেবে দেখছে এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ছাড় না দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। দলটির অবস্থান স্পষ্ট: এখন যারা দলের ডাকে সাড়া দেবেন না, পরবর্তী সময়ে দলও তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। তবে অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের ভূমিকা ও ত্যাগ বিবেচনা করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন অর্থাৎ আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত দেখা হবে। বিএনপির প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীই নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্যের বার্তা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, “বিএনপির মতো এত বড় দলে যোগ্য প্রার্থীর অভাব নেই। আমরা আহ্বান জানিয়েছি, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করুন। অনেকে এরই মধ্যে প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছেন। আশা করি, তপশিল ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই বিএনপির বিদ্রোহীরা সবাই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন। সেটি না করা হলে দল থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জোট ও শরিকদের গুরুত্ব
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাদের শরিকদের জন্য ১৭টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে অনিবন্ধিত শরিকরা ধানের শীষ প্রতীকে এবং নিবন্ধিত শরিকরা নিজ নিজ প্রতীকে ভোট করছেন। জোট নেতাদের বিজয় সুনিশ্চিত করতে এবং মিত্রদের কাছে যাতে কোনো ভুল বার্তা না যায়, সেজন্য বিএনপি এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে জোট নেতাদের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় জোটের ঐক্যে ফাটল ধরার আশঙ্কা করছে দলটি।
তারেক রহমানের উদ্যোগ ও বহিষ্কারের ঘটনা
বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরাতে অঞ্চলভিত্তিক জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই ঢাকায় ডেকে তাদের কারও কারও সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে ধানের শীষ বা জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে সরকার গঠন করলে তাদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিচ্ছেন এবং বহিষ্কৃত হলে শিগগিরই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আশ্বাস দিচ্ছেন।
এরই মধ্যে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সৈয়দ একে একরামুজ্জামান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এবং তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে ঢাকা-১২ আসনের সাইফুল আলম নীরব ও ঢাকা-১৪ আসনের এসএ সিদ্দিক সাজু তারেক রহমানের নির্দেশনার পরও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে সাজুকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যান্য আসনে বিদ্রোহী পরিস্থিতি
শরিকদের আসন ছাড় দেওয়ার পরও বেশ কিছু আসনে 'বিদ্রোহী'রা মাঠে রয়ে যাওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে এখনো দ্বিধা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। যেমন—
- নাটোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু।
- টাঙ্গাইল-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল।
- বগুড়া-২ আসনে জোটের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার বিরুদ্ধে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির শাহে আলম।
- পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকারের নুরুল হক নুরের সমর্থনে স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটে রয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন।
এছাড়াও বেশ কিছু আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলের নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে রয়েছেন। বিএনপি হাইকমান্ড পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর অবস্থানে অনড় আছে।