• মতামত
  • শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের' স্থপতি ও উন্নয়ন বিপ্লবের পথিকৃৎ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের' স্থপতি ও উন্নয়ন বিপ্লবের পথিকৃৎ

মতামত ১ মিনিট পড়া
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের' স্থপতি ও উন্নয়ন বিপ্লবের পথিকৃৎ

বাকশালী দুঃশাসন, দুর্ভিক্ষ ও বিদেশি আধিপত্যের ক্রান্তিলগ্নে তার আবির্ভাব; জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি এবং মাটি ও মানুষের রাজনীতি কেন আজও প্রাসঙ্গিক

ক্রান্তিলগ্ন থেকে জাতীয় জাগরণের স্থপতি

জাতির ক্রান্তিলগ্নে যেসব ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের আবির্ভাব ঘটে, দেশ ও জাতিকে বিশৃঙ্খলা, অন্যায়-অত্যাচার থেকে উদ্ধার করেন এবং যাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা ও বীরোচিত কর্মের কারণে জাতি নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) তাদের অন্যতম। বাংলাদেশের জনগণ যখন শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশালী স্বৈরশাসনে নিষ্পেষিত, অত্যাচারে জর্জরিত, দেশ যখন দুর্ভিক্ষ কবলিত, আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী জনগণকে শোষণ করে সম্পদের পাহাড় গড়ছিল, সেই সময়ে বীরোত্তম রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার দীপ্ত প্রত্যয় ও জীবনাদর্শ দেশবাসীকে উজ্জীবিত করেছে এবং দেশ-কাল-জাতির কাছে তিনি চিরকালীন ভক্তি-শ্রদ্ধা-ভালোবাসার আসন অলংকৃত করে আছেন।

স্বাধীনতার ঘোষণা ও রণাঙ্গনে Z-Force

প্রাচীন গ্রিসের সক্রেটিস, পেরিক্লিসরা যেভাবে মানুষকে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, ঠিক সেভাবে বাংলাদেশে জিয়াউর রহমান মানুষকে জাগিয়ে সুসংঘবদ্ধ গণঐক্য গড়ে তুলেছিলেন। জিয়াউর রহমানই প্রথম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা (Declaration of Independence) দিয়ে হতভম্ব জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে পথের দিশা দিয়েছিলেন। ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, "মিস্টার প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশের ইতিহাসে আপনার আসন সবচেয়ে স্থায়ী হয়ে গেছে সেদিন, যেদিন আপনি সবার আগে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।"

জিয়াউর রহমান শুধু ঘোষণা করেই বসে থাকেননি, তিনি নিজে রণাঙ্গনে যুদ্ধ শুরু করেছেন। তিনি মুক্তি ও গেরিলা বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন এবং Z-Force গঠন করে অসম সাহসিকতার সঙ্গে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখসমরে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন।

রাজনৈতিক দর্শন: 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ' ও সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন

জিয়াউর রহমানের রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের মানুষের প্রকৃত পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করে তিনি এগিয়ে গেছেন।

জাতীয়তাবাদের পরিবর্তন: পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের থেকে বাংলাদেশের বাঙালিদের তিনি আলাদা করেছেন। এজন্য তিনি 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের' পরিবর্তে 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ' (Bangladeshi Nationalism) প্রবর্তন করে দেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোকে একত্রিত করার প্রয়াস চালান এবং সফল হন।

সাংবিধানিক পরিবর্তন: সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার স্থলে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' সংযোজন করেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে 'আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাসের' প্রতিস্থাপন করে এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠা করেন। তার রাজনীতি ছিল বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা, যা অন্য রাষ্ট্রের প্রতি নির্ভরশীল হবে না।

উন্নয়ন বিপ্লবের Blueprint: ১৯ দফা ও Grassroots অর্থনীতি

দেশের সমৃদ্ধি, গৌরব ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচি (19-Point Program) প্রদান করেছিলেন। প্রকৃত অর্থে তার রাজনীতি ছিল কৃষিবিপ্লবের রাজনীতি, নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিল্পবিপ্লবের রাজনীতি, পরিবার-পরিকল্পনার রাজনীতি এবং নারী ও যুব জাগরণের রাজনীতি।

প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ সরকারের মহিলা মন্ত্রণালয়, যুব মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয় জিয়ার রাজনীতির ফসল। এর বাইরে নারীর কর্মসংস্থান ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা, বেকারত্ব দূরীকরণ, আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থাকরণ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (EPZ) প্রতিষ্ঠা এবং বিকেএসপি (BKSP) জিয়ার রাজনীতির অসাধারণ কৃতিত্ব হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।

অন্যান্য অবদান: সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং বর্তমান জাতীয় সংসদ ভবন জিয়ার রাজনীতির অসাধারণ ফসল।

নেতৃত্বের স্টাইল: 'মাটি ও মানুষের রাজনীতি' এবং Mass Contact

জিয়াউর রহমানের রাজনীতি ছিল 'মা, মাটি মানুষের রাজনীতি'। প্রচলিত শহুরে ঘেঁষা রাজনীতিকে তিনি কঠিন করে তুলেছিলেন এবং মাটি ও মানুষের একেবারে কাছে চলে গিয়েছিলেন।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংযোগ: বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় গ্রামগঞ্জে তিনি নিয়মিত ছুটে গেছেন। নিরাপত্তা বেষ্টনীর তোয়াক্কা না করে মাইলের পর মাইল হেঁটেছেন। নিজ হাতে গাছ লাগিয়েছেন, গেঞ্জি আর প্যান্ট পরে কোদাল চালিয়ে খাল কেটেছেন এবং কারখানায় মেশিন চালিয়েছেন।

উদ্বুদ্ধকরণ: নিজে মাঠে নেমে কাজ করে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এর আগে ও পরে কোনো রাজনীতিবিদকে প্রকৃত অর্থে জনগণ এ ধরনের কাজ করতে দেখেনি। সেজন্য জিয়াউর রহমান সাধারণ মানুষের জিয়ায় পরিণত হয়েছিলেন।

গণতান্ত্রিক ধারা: তিনি একদলীয় বাকশালী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের রাজনীতি চালু করেন। গ্রাম উন্নয়নের জন্য গ্রাম সরকার, গ্রামের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য নগ্নপদ ডাক্তারের পরিকল্পনা জিয়ার রাজনীতিরই ফসল। তিনি প্রায় পাঁচ হাজারের মতো সাংগঠনিক সভা (Organizational Meeting) করেছেন।

শাহাদাত ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার (Legacy)

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ফলে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা (Political Stability) এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসে। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে দেশি-বিদেশি আধিপত্যবাদী ও কুচক্রী মহল গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস করার চক্রান্ত শুরু করে।

মর্মান্তিক সমাপ্তি: ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর একাংশের বিদ্রোহে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণ করেন। মূলত এ হত্যাকাণ্ডের দ্বারা আধিপত্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তি দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল।

বিএনপি'র শক্তি বৃদ্ধি: জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সূচিত উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দেশের মানুষ মনেপ্রাণে গ্রহণ করেছিল বলেই তার শাহাদাত-পরবর্তী সময়ে বিএনপি আরও শক্তিশালী হয়ে তার যোগ্য সহধর্মিণী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তিনবার সরকার গঠন করে।

বর্তমান নেতৃত্ব: বর্তমানে তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে আগামী দিনে দেশের শাসন কাঠামোয় প্রতিষ্ঠিত করতে সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন।

Tags: tarique rahman bnp grassroots khaleda zia ziaur rahman epz bksp political philosophy bangladeshi nationalism 19 dofa independence