ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী ময়দান। এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দীর্ঘ বৈঠক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন টিম। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে রুমিন ফারহানার নিজ বাসভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও নির্বাচনী পরিবেশ পর্যালোচনা
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই বৈঠকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। বৈঠকে মূলত ‘Level Playing Field’ বা সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ (Transparent) নির্বাচন আয়োজনের প্রতিবন্ধকতাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রুমিন ফারহানা নির্বাচনী এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে পর্যবেক্ষক দলকে অবহিত করেন। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের এই ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ রুখে দেওয়ার ঘোষণা
বৈঠক শেষে মঙ্গলবার রাতে সরাইল উপজেলার সূর্যকান্দি গ্রামে এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সেখানে তিনি ইইউ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার আলোচনার বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিদেশি পর্যবেক্ষকদের গভীর নজর এই সরাইল-আশুগঞ্জ আসনের ওপর রয়েছে। আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা আমার শাহবাজপুরের বাসায় এসে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেছেন। তারা মাঠপর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে আগ্রহী।”
এ সময় কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “কেউ যদি মনে করেন এই আসনে ‘Election Engineering’ বা কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল ছিনিয়ে নেবেন, তবে তাদের সাবধান করে দিচ্ছি। কোনো দল যেন আগাম ধরে না নেয় যে তারাই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এবং পুলিশ প্রশাসন তাদের অনুগত হয়ে কাজ করবে। প্রশাসনের উচিত হবে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো।”
১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ও ‘হাঁস’ মার্কার লড়াই
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের রাজনীতির ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “১২ তারিখের ভোট পুরো রাজনীতির চেহারা ও গতিপথ পাল্টে দিতে পারে। আমার নির্বাচনী প্রতীক ‘হাঁস’ কোনো ব্যক্তিবিশেষের নয়, এটি জনগণের প্রতীক, সাহসের প্রতীক এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে একা দাঁড়িয়ে লড়াই করার প্রতীক।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আপনারা ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ‘হাঁস’ মার্কার বিজয় নিশ্চিত করবেন। আমি নির্বাচিত হলে সরাইল ও আশুগঞ্জকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব, যেখানে বেকারত্ব দূরীকরণ ও কাঠামোগত উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নির্বাচনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।