• রাজনীতি
  • ভোটের প্রচারে ঘুরে ফিরে ‘দোষারোপের রাজনীতি’

ভোটের প্রচারে ঘুরে ফিরে ‘দোষারোপের রাজনীতি’

“সন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা করা…আমরা ক্ষমতায়; তারপরও আমার দলের এতগুলো মানুষ তারা হত্যা করেছে।”

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ভোটের প্রচারে ঘুরে ফিরে ‘দোষারোপের রাজনীতি’

“তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য কী ব্যবস্থা করবে, দেশের অর্থনীতি কীভাবে পুনর্গঠিত হবে¬–মানুষ এসব কথায় আশ্বস্ত হতে চায়,” বলেন জেসমিন টুলী।

এবারের ভোটে রাজনৈতিক দলগুলোর বার্তা ছিল ‘সমালোচনা’ আর ‘দোষারোপের রাজনীতি’ এড়ানোর; তবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হতেই অতীতের মতো সেই পথই বেছে নিয়েছে তারা।

আনুষ্ঠানিক প্রচারের শুরু থেকেই দুই বড় জোটের তরফে একে অপরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। কখনও নেতারা সরাসরি বলছেন, কখনও কোনো দলের নাম না নিয়ে আকারে ইঙ্গিতে অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছেন, কখনওবা বিভিন্ন অভিযোগ আনছেন পরস্পরের বিরুদ্ধে।

শুধু বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য নয়, ভোটের প্রচারকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গা লালমনিরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে দীর্ঘদিন সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা শুরু না হওয়ায় দলগুলো এমন প্রচার কৌশল থেকে বের হতে পারেনি।

প্রচারে একে অপরের প্রতি বিষোদগার করে ভোটার টানার কৌশল কতটা কাজে আসবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশও করেছেন তারা।

ভোটারদের কাছ থেকে এ বিষয়ে এসেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একজন ভোটার বলেছেন, রাজনৈতিক বিষোদগার একটা ব্যাধি। এ ব্যাধি থেকে বেড়িয়ে আসা উচিত।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সেই জায়গা থেকে তারা এমন প্রচার কৌশল দেখতে চান না। প্রচারে অতীতের ঘটনা নিয়ে ‘বদনাম’ করা ঠিক না, এমন মন্তব্য তাদের।

তবে কথার এ লড়াইকে অনেকে নির্বাচনি আমেজ হিসেবেও দেখছেন। কেউ কেউ এও বলছেন, প্রচারে নেমে নেতারা কী বলছেন, সেই বক্তব্য শোনার মতো অবসর তাদের নেই।

সবশেষ ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়। ওই সময় ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ।

ভোটের দিন বিএনপি জোট দেশজুড়ে নাশকতা চালাতে পারে- এমন ‘তথ্য থাকার’ দাবি করে প্রচার চালায় আওয়ামী লীগ। এর বিপরীতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ‘যোগসাজশে’ সরকার ‘কারচুপির’ ভোট করবে- এমন অভিযোগ ছিল বিএনপির।

নির্বাচনের আগে তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “ওদের (বিএনপি-জামায়াত) একটা চরিত্র আছে ওইরকম, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে হঠাৎ বলবে, ‘আমরা নির্বাচন করব না। আমরা প্রত্যাহার করে নিলাম’।

“সন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা করা…আমরা ক্ষমতায়; তারপরও আমার দলের এতগুলো মানুষ তারা হত্যা করেছে।”

Tags: ভোটের প্রচারে ঘুরে ফিরে ‘দোষারোপের রাজনীতি’