২০২৬ বিশ্বকাপের দামামা বাজার আগেই ফুটবল বিশ্বের নজর এখন ২০৩০ সালের দিকে। ফুটবল ইতিহাসের অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাওয়া এই শতবর্ষী বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চ নিয়ে দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে। মরক্কো ও পর্তুগালের সাথে যৌথ আয়োজক হিসেবে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত ফাইনাল ম্যাচটি আয়োজনের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পেয়েছে স্পেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (RFEF) নবনিযুক্ত সভাপতি রাফায়েল লুজান এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের বড় ঘোষণা
২০৩০ বিশ্বকাপের ‘Final Venue’ নিয়ে আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের ঠান্ডা লড়াই চলছিল। বিশেষ করে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো অত্যন্ত জোরালোভাবে ফাইনাল আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে স্পেনের ফুটবল প্রধান রাফায়েল লুজান সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নেতৃত্ব দেবে স্পেনই। তিনি বলেন, “২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে স্পেনই মূল ভূমিকায় থাকবে এবং স্বপ্নের ফাইনালটি আমাদের মাটিতেই অনুষ্ঠিত হবে।”
ফাইনালের মঞ্চ: বার্নাব্যু নাকি ক্যাম্প ন্যু?
ফাইনাল স্পেনে হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও ঠিক কোন স্টেডিয়ামে বাঁশি বাজবে কিক-অফের, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্প্যানিশ গণমাধ্যম ও ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, লড়াইটি মূলত দুটি ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামের মধ্যে। রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ এবং ঐতিহ্যের প্রতীক ‘সান্তিয়াগো বার্নাব্যু’ (Santiago Bernabéu) এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে। তবে পিছিয়ে নেই বার্সেলোনার নবনির্মিত এবং অত্যাধুনিক ‘ক্যাম্প ন্যু’ (Camp Nou) স্টেডিয়ামটিও। ফিফার মানদণ্ড অনুযায়ী যে কোনো একটি মাঠকে বেছে নেওয়া হবে, যা হবে বিশ্ব ফুটবলের গ্ল্যামার ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ।
মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গ ও বিশাল স্টেডিয়াম পরিকল্পনা
ফাইনাল আয়োজনের লড়াইয়ে মরক্কো ছিল স্পেনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। দেশটি তাদের কাসাব্লাঙ্কায় নির্মাণাধীন ‘হাসান টু’ স্টেডিয়ামে ফাইনাল আয়োজনের মহাপ্রকল্প হাতে নিয়েছিল। ২০২৮ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হলে এটি হবে বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম, যার ‘Capacity’ বা ধারণক্ষমতা হবে ১ লাখ ১৫ হাজার। এত বড় আয়োজন ও বিশাল পরিকাঠামো প্রদর্শন সত্ত্বেও ফিফার নীতিগত সিদ্ধান্ত ও স্পেনের ফুটবল ঐতিহ্যের কাছে শেষ পর্যন্ত মরক্কোকে নতিস্বীকার করতে হয়েছে।
তিন মহাদেশে ছড়ানো শতবর্ষী আয়োজন
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্ণ হবে ২০৩০ সালে। এই বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে ফিফা এক নজিরবিহীন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই আসরটি অনুষ্ঠিত হবে তিনটি মহাদেশ জুড়ে। মূল আয়োজক হিসেবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো থাকলেও, উদ্বোধনী ম্যাচসহ বিশেষ কিছু ম্যাচ আয়োজন করা হবে লাতিন আমেরিকার তিন দেশ উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। এর মাধ্যমে ফুটবলকে বিশ্বজনীন রূপ দেওয়ার পাশাপাশি এর ঐতিহাসিক শেকড়কেও সম্মান জানানো হবে।
২০৩০ বিশ্বকাপ কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতি ও মহাদেশের এক মিলনমেলা। আর সেই মেলার রাজকীয় সমাপনী বা ফাইনাল দেখার অপেক্ষায় এখন ফুটবল বিশ্ব, যার কেন্দ্রে থাকবে তপ্ত স্প্যানিশ মাঠ।