গত মৌসুমটা ছিল ইন্টার মায়ামির জন্য এক রূপকথার মহাকাব্য। লিওনেল মেসির জাদুকরী ছোঁয়ায় প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ (MLS Cup) জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ‘হেরন’রা। কিন্তু নতুন মরসুমের শুরুতে সেই সাফল্যের রেশ ধরে রাখা তো দূরে থাক, উল্টো বড় হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির (LAFC) ঘরের মাঠে রোববার সকালে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে মেসির দল।
চ্যাম্পিয়নদের বিষাদময় সূচনা
লস অ্যাঞ্জেলেসের মেমোরিয়াল কলোসিয়ামে যখন রেফারি বাঁশি বাজালেন, গ্যালারি ঠাসা দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল মেসির গোল কিংবা জাদুকরী কোনো পাস। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টো চিত্র। ম্যাচের শুরু থেকেই মায়ামিকে চাপে রাখে এলএএফসি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। পুরো ম্যাচ খেলেছেন মেসি, কিন্তু যে ‘ম্যাজিক’ দেখার জন্য ফুটবল বিশ্ব উন্মুখ ছিল, তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি এদিন।
মাঠে বলের দখল বনাম কার্যকর আক্রমণ
ম্যাচের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাঠের নিয়ন্ত্রণ বা ‘Ball Possession’-এ যোজন যোজন এগিয়ে ছিল ইন্টার মায়ামি। ৬৯ শতাংশ সময় বল ছিল মেসির দলের পায়ে। তবে আধুনিক ফুটবলে শুধু বলের দখল যে জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না, তা প্রমাণ করেছে এলএএফসি। মায়ামি পুরো ম্যাচে মাত্র ১০টি শট নিতে পেরেছে, যার মধ্যে লক্ষ্যে (On Target) ছিল মাত্র দুটি। অন্যদিকে, মাত্র ৩১ শতাংশ বল পজেশন নিয়েও এলএএফসি ১৩টি আক্রমণ শানিয়েছে, যার ৫টিই ছিল গোলমুখী।
কৌশলী এলএএফসি ও মায়ামির রক্ষণভাগের ফাটল
ম্যাচের ৩৮ মিনিটে ডেভিড মার্টিনেজের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লিড নেয় লস অ্যাঞ্জেলেস। প্রথমার্ধে ১-০ তে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল মায়ামি, কিন্তু কাউন্টার অ্যাটাক (Counter-attack) সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের রক্ষণভাগকে। ৭৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডেনিস বউয়াঙ্গা। আর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে নাথান অরদাজ গোল করে মায়ামির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন।
নতুন ফরমেশন ও সুয়ারেজহীন আক্রমণভাগ
মায়ামির কোচ এদিন কিছুটা রক্ষণাত্মক অথচ আক্রমণাত্মক ভারসাম্য আনার চেষ্টায় ৪-২-৩-১ ‘Formation’ সাজিয়েছিলেন। সবাইকে অবাক করে দিয়ে লুইস সুয়ারেজকে রাখা হয়েছিল বেঞ্চে। মেসি খেলেছেন ‘Number Ten’ রোলে, তার পাশে ছিলেন তরুণ মাতেও সিলভেত্তি ও তেলাসকো সেগোভিয়া। সেন্ট্রাল ফরওয়ার্ড হিসেবে নামানো হয়েছিল নতুন রিক্রুট হেরমান বারতেরামেকে। তবে নতুন এই আক্রমণভাগের মধ্যে কোনো সমন্বয় বা ‘Chemistry’ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সুয়ারেজের অভাব এবং মাঝমাঠের দুর্বলতা মায়ামিকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ ও মেসির প্রস্তুতি
সিজন ওপেনারে এই হার নিশ্চিতভাবেই বড় ধাক্কা মেসির দলের জন্য। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের ওপর যে প্রত্যাশার চাপ রয়েছে, তা পূরণ করতে হলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ করে দলের তারকা খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া এবং ফিনিশিংয়ের অভাব কাটিয়ে ওঠাই এখন কোচ এবং অধিনায়ক মেসির মূল চ্যালেঞ্জ। ফুটবলের বরপুত্র কি পারবেন পরবর্তী ম্যাচেই নিজের চেনা ছন্দে ফিরে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে? উত্তর দেবে সময়।