• আন্তর্জাতিক
  • উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালী: আকাশসীমা বন্ধ করে ‘লাইভ-ফায়ার’ মহড়ার ঘোষণা ইরানের

উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালী: আকাশসীমা বন্ধ করে ‘লাইভ-ফায়ার’ মহড়ার ঘোষণা ইরানের

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালী: আকাশসীমা বন্ধ করে ‘লাইভ-ফায়ার’ মহড়ার ঘোষণা ইরানের

মার্কিন রণতরী ও সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতির মধ্যেই তেহরানের পাল্টা শক্তি প্রদর্শন; বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের দামামা আরও প্রকট করে তুলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও রণতরী পৌঁছানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তেহরান এই পদক্ষেপ নিল। একইসঙ্গে নিরাপত্তার খাতিরে সংশ্লিষ্ট এলাকার আকাশসীমা বন্ধ করে বিমান বাহিনীর জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ইরান।

আকাশসীমা বন্ধ ও ‘লাইভ-ফায়ার’ মহড়া

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি ‘NOTAM’ (Notice to Air Missions) জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২৭ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ‘Live-fire’ বা সরাসরি গুলি ছোড়ার মহড়া চলবে। এই সময় প্রণালীর চারপাশে পাঁচ নটিক্যাল মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনো বেসামরিক বিমান চলাচল করতে পারবে না। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৫,০০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত এই এলাকাকে ‘Danger Zone’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

হরমুজের কৌশলগত গুরুত্ব ও জ্বালানি ঝুঁকি

হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘Strategic Chokepoint’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) একটি বিশাল অংশ প্রতিদিন এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই আকস্মিক সামরিক তৎপরতা এবং আকাশসীমা বন্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। প্রণালীতে সামান্যতম বিঘ্নও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা হুমকি

ইরানের এই মহড়া এমন এক সময়ে শুরু হচ্ছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন (USS Abraham Lincoln) এবং বেশ কিছু গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী (Destroyers) জাহাজ ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবস্থান নিয়েছে, যা মূলত মার্কিন ‘Central Command’-এর অধীনে কাজ করছে।

ওয়াশিংটন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরান ও তার মিত্রদের মোকাবিলার জন্য সামরিক পদক্ষেপসহ সব বিকল্পই (All options are on the table) তাদের টেবিলে রয়েছে। বিশেষ করে ইসরাইলের ওপর সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

অভ্যন্তরীণ সংকট ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ইরানের এই কঠোর অবস্থান কেবল বহিঃশক্তির চাপ নয়, বরং অভ্যন্তরীণ সংকটের সাথেও সম্পর্কিত। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অর্থনৈতিক মন্দার প্রতিবাদে ইরানে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ চলছে। এই বিক্ষোভ দমনে ইরানি সরকার কঠোর পথ অবলম্বন করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা ছিল, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সরাসরি হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না। যদিও এর প্রেক্ষিতে ইরান মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে আসে, কিন্তু বর্তমানে মার্কিন রণতরীর আগমন পরিস্থিতিকে আবারও সংঘাতের কিনারায় নিয়ে গেছে।

তেহরানের প্রতিরক্ষা অবস্থান

ইরানি কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ওপর যেকোনো প্রকার আক্রমণ বা উস্কানির জবাব দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলে কোনো পরিবর্তন আনবে না। বরং যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা ‘দ্রুত এবং ব্যাপক’ প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই পাল্টাপাল্টি রণসজ্জা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো স্পর্শকাতর স্থানে লাইভ-ফায়ার মহড়া একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের পথ তৈরি করছে কি না—সেই আশঙ্কায় এখন কাঁপছে বিশ্ব রাজনীতি।

Tags: middle east oil market us military tehran news military tension aviation alert hormuz strait iran drill live fire strategic zone