• বিনোদন
  • রক্ত-মাংসের মানুষ নন, তবুও তিনি ‘বিশ্বসুন্দরী’: ভাইরাল মডেল নিয়া নোয়ারের নেপথ্য কাহিনী

রক্ত-মাংসের মানুষ নন, তবুও তিনি ‘বিশ্বসুন্দরী’: ভাইরাল মডেল নিয়া নোয়ারের নেপথ্য কাহিনী

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
রক্ত-মাংসের মানুষ নন, তবুও তিনি ‘বিশ্বসুন্দরী’: ভাইরাল মডেল নিয়া নোয়ারের নেপথ্য কাহিনী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ম্যাজিকে কুপোকাত নেটপাড়া; সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়া নোয়ারের ২.৭ মিলিয়ন ফলোয়ারের রহস্য ফাঁস।

সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় উল্কার গতিতে উত্থান। মাত্র এক মাসের মধ্যে কয়েক মিলিয়ন মানুষের হৃদস্পন্দন হয়ে উঠেছেন তিনি। মোহময়ী চোখ, নিখুঁত শারীরিক গড়ন আর নজরকাড়া নাচের ভিডিওতে মাতোয়ারা ইনস্টাগ্রাম (Instagram) ও টিকটক (TikTok)। ভক্তরা তাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারী’ খেতাবে ভূষিত করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি এই ভাইরাল মডেল ‘নিয়া নোয়ার’ (Nia Noar)-এর বিষয়ে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা শুনে চোখ কপালে উঠেছে নেটিজেনদের। জনসমক্ষে আসা এই বিস্ময়কর তথ্যটি হলো— নিয়া নোয়ার আসলে কোনো রক্ত-মাংসের মানুষ নন, বরং তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) দিয়ে তৈরি একটি ডিজিটাল অবয়ব।

রহস্যময়ী নিয়া নোয়ার: এক মাসেই মিলিয়নের ঘরে ফলোয়ার

চলতি মাসের শুরুর দিকেই ডিজিটাল জগতের আকাশে উদয় হয় নিয়া নোয়ারের। তার পোস্ট করা প্রতিটি সেলফি, ভ্রমণের ছবি কিংবা নাচের ছোট ভিডিওগুলোতে লাইক ও কমেন্টের বন্যা বয়ে যায়। বর্তমানে তার ফলোয়ার সংখ্যা ২.৭ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। ইউনিলাড টেক (Unilad Tech)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়ার সৌন্দর্য এতটাই নিখুঁত যে সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষে বোঝা অসম্ভব ছিল যে তিনি বাস্তবে নেই। লিল টে (Lil Tay) বা সোফিয়া রেইনের (Sophia Rain) মতো প্রভাবশালী ইন্টারনেট ব্যক্তিত্বদের তালিকায় তার নাম যুক্ত হতে খুব একটা সময় লাগেনি।

এআই মডেলের নেপথ্যে বিশাল বাণিজ্যিক কৌশল

নিয়া নোয়ার কেবল বিনোদনের জন্য তৈরি করা কোনো ডিজিটাল আর্ট নয়। এর পেছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত ডিজিটাল মার্কেটিং (Digital Marketing) এবং বিজনেস মডেল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের পরিবর্তে এআই জেনারেটেড (AI Generated) মডেল ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন প্রচার বা প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করলে ব্র্যান্ডগুলোর জন্য হাই এনগেজমেন্ট (High Engagement) পাওয়া সহজ হয়। এতে কোনো রক্ত-মাংসের মডেলের মতো পারিশ্রমিক বা শারীরিক ক্লান্তির ঝামেলা থাকে না। এমনকি ফ্যানলি (Fanly)-র মতো সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলোতেও নিয়ার উপস্থিতি বেশ লাভজনক হয়ে উঠেছে, যা থেকে বিশাল অংকের অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হচ্ছে।

তথ্য ফাঁসের পর অনুসারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস (International Business Times) জানিয়েছে, নিয়া নোয়ার যে আসলে একটি ভার্চুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার (Virtual Influencer), এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর তার অনুসারীদের একটি বড় অংশ হতাশ হয়েছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে তারা একটি ‘কল্পিত’ মানুষের মোহে অন্ধ ছিলেন। ফলে তার জনপ্রিয়তা ও ফলোয়ার সংখ্যায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ভার্চুয়াল মডেলদের আধিপত্য আরও বাড়বে।

কেন এআই মডেলের দিকে ঝুঁকছে টেক দুনিয়া?

আধুনিক টেক জায়ান্ট (Tech Giant) এবং ক্রিয়েটররা এখন রক্ত-মাংসের মানুষের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে এআই-এর আশ্রয় নিচ্ছেন। নিয়া নোয়ারের মতো ভার্চুয়াল মডেলরা চব্বিশ ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে এবং নিখুঁতভাবে উপস্থাপনা করতে সক্ষম। ডিজিটাল মিডিয়া ল্যান্ডস্কেপে এটি একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন, যা একই সঙ্গে নীতিগত প্রশ্নও তুলছে। মানুষ কি তবে ধীরে ধীরে বাস্তব সৌন্দর্যের চেয়ে কৃত্রিম বা ভার্চুয়াল সৌন্দর্যের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে?

নিয়া নোয়ারের এই ঘটনাটি আমাদের জানান দিচ্ছে যে, আগামী দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা যা দেখছি, তার সত্যতা যাচাই করা কতটা জরুরি হয়ে পড়বে। আপাতদৃষ্টিতে ‘বিশ্বসুন্দরী’ মনে হলেও পর্দার ওপারের সত্যটা হয়তো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ডেটা (Data) ও অ্যালগরিদমের খেলা।

Tags: social media artificial intelligence ai model nia noar viral beauty digital marketing instagram followers tech trends virtual influencer internet sensation