• খেলা
  • ‘আইসিসি মূলত বিসিসিআইয়ের দুবাই অফিস’, বিশ্বকাপ বিতর্কে বিস্ফোরক শারদা উগ্রা

‘আইসিসি মূলত বিসিসিআইয়ের দুবাই অফিস’, বিশ্বকাপ বিতর্কে বিস্ফোরক শারদা উগ্রা

খেলা ১ মিনিট পড়া
‘আইসিসি মূলত বিসিসিআইয়ের দুবাই অফিস’, বিশ্বকাপ বিতর্কে বিস্ফোরক শারদা উগ্রা

বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া ও পাকিস্তানের বয়কট হুমকির মুখে খাদের কিনারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ; আইসিসির ওপর ভারতের একাধিপত্য নিয়ে কড়া সমালোচনা প্রবীণ ক্রীড়া সাংবাদিকের।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণ শুরু হওয়ার আগেই মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এখন আলোচনার তুঙ্গে ক্রিকেটের প্রশাসনিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক টানাপড়েন। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে ভারত সফরে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। টাইগারের পরিবর্তে ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে চতুর্থ হওয়া স্কটল্যান্ডকে মূল পর্বে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইসিসির এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তকে ‘দ্বিচারিতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে টুর্নামেন্ট বয়কটের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। বিশ্ব ক্রিকেটের এই টালমাটাল অবস্থায় এবার ঘি ঢাললেন ভারতেরই প্রবীণ ক্রীড়া সাংবাদিক শারদা উগ্রা। তার মতে, আইসিসি এখন স্বাধীন কোনো সংস্থা নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) একটি আজ্ঞাবহ শাখায় পরিণত হয়েছে।

খাদের কিনারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

বাংলাদেশকে ছাড়াই বিশ্বকাপের রোডম্যাপ সাজানোয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখন সুতোর ওপর ঝুলছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তান এই মেগা ইভেন্টে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে শুক্রবার অথবা আগামী সোমবারের মধ্যেই। পাকিস্তানের সম্ভাব্য বয়কট টুর্নামেন্টের ব্রডকাস্টিং রাইটস এবং সামগ্রিক বাণিজ্যিক মূল্যের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘আইসিসি আসলে বিসিসিআইয়ের দুবাই অফিস’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-এ প্রখ্যাত সাংবাদিক করণ থাপারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শারদা উগ্রা বিসিসিআইয়ের কঠোর সমালোচনা করেন। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপকে ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার মূলে বিসিসিআইয়ের ‘অহংবোধ’ বা 'Ego' কাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন। উগ্রা সরাসরি মন্তব্য করেন, “আইসিসি মূলত বিসিসিআইয়ের দুবাই অফিস ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা একটি নির্দিষ্ট দেশের বোর্ডের ইশারা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।”

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ দল যখন নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত সফর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তখন বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা না করে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। শারদা বলেন, “যখন পুরো একটি দল (বাংলাদেশ) তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন পরিস্থিতি আর স্বাভাবিক থাকে না। আইসিসি কি এখানে স্বাধীনভাবে কাজ করছে নাকি ভারত সরকারের নির্দেশনা মেনে চলছে—সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। তবে আমি এটুকু নিশ্চিত যে, আইসিসির প্রতিটি পদক্ষেপে বিসিসিআইয়ের আধিপত্য স্পষ্ট।”

ভারতের আর্থিক শক্তি ও আইসিসির ‘নতজানু’ নীতি

ক্রিকেট বিশ্বে ভারতের বিপুল আর্থিক প্রতিপত্তি বা ‘Financial Muscle’ এই সংকটের পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করেন শারদা উগ্রা। তার মতে, আইসিসি বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা ভারতের প্রভাবের কাছে এক প্রকার ‘নতজানু’ হয়ে থাকে। তিনি বলেন, “ভারত ক্রিকেটের বৃহত্তম বাজার (Global Cricket Market)। এই আর্থিক শক্তির কারণেই আইসিসি এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশ যদি নিরাপত্তার কারণে আপত্তি তোলে, তবে সেটিকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো আইসিসির বিধিমালার মারপ্যাঁচে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ এই একই যুক্তি অন্য প্রভাবশালী দেশের ক্ষেত্রে খাটে না।”

উগ্রা আরও যোগ করেন, আইসিসির ‘Executive Board’ যেভাবে বিসিসিআইয়ের ইচ্ছা অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাতে ক্রিকেটের নিরপেক্ষতা বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। তিনি মনে করেন, এই ঘটনা ক্রিকেটের ‘Global Governance’ কাঠামোর বড় ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছে।

সংকটে বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া এবং পাকিস্তানের সম্ভাব্য বয়কট হুমকির ফলে বিশ্বকাপের ‘Brand Value’ এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, মোস্তাফিজুর রহমানের মতো তারকা ক্রিকেটারদের কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতা শেষ পর্যন্ত একটি বড় রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। শারদা উগ্রার এই বিস্ফোরক মন্তব্য বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন বিসিসিআই তাদের প্রভাব খাটিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনে অনড়, অন্যদিকে তখন অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ।

শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান বয়কটের পথে হাঁটলে তা হবে বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য এক কালো অধ্যায়। আইসিসি কি শেষ পর্যন্ত তাদের ‘দুবাই অফিস’ তকমা ঝেড়ে ফেলে একটি নিরপেক্ষ সমাধান বের করতে পারবে, নাকি বিসিসিআইয়ের একাধিপত্যের কাছে নতি স্বীকার করে বিশ্বকাপের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করবে—তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।

Tags: sports news bangladesh cricket bcci t20 world cup mohsin naqvi cricket controversy cricket politics icc pcb boycott sharda ugra