ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ, পরিচয় প্রকাশ এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণাসহ একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরে এবিবি।
এর আগে, গত ১২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে এক বৈঠকে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি ও তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করে সংগঠনটি।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এজন্য তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশের পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে একইসঙ্গে প্রকৃত সংকটে পড়া ঋণগ্রহীতাদের জন্য সীমিত ও সময়সীমা বদ্ধ সহায়তার কথাও বলেছে এবিবি। অসুস্থতা, মৃত্যু কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যারা সাময়িকভাবে ঋণ পরিশোধে অক্ষম, তাদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সহানুভূতিশীল নীতি গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
খেলাপি ঋণ আদায় দ্রুততর করতে ব্যাংক-নিলামে বিক্রি হওয়া সম্পদের ওপর কর ও শুল্ক ছাড়, ক্রেতাদের জন্য আয়কর প্রণোদনা এবং নিলামকৃত সম্পদ হস্তান্তরে আদালতের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে ব্যাংকারদের সংগঠনটি।
এছাড়া বন্ধকি সম্পদ দ্রুত হস্তান্তরের জন্য ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মানি লোন কোর্ট আইন আরও কার্যকর করতে আদালতে অযথা সময়ক্ষেপণ কমানো, গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরে গতি আনা, দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি সুবিধা সীমিত করা এবং বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে— এমন জেলাগুলোতে পৃথক ঋণ আদায় আদালত গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
নতুন করে ঋণখেলাপি সৃষ্টি রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে বন্ধকি জমি ও সম্পদের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ গঠনের সুপারিশ করেছে এবিবি। এতে ব্যাংকগুলো জামানতের তথ্য ও মূল্যায়ন সহজে যাচাই করতে পারবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সই করা চিঠিতে আশা প্রকাশ করা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে এবং এর মাধ্যমে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরে আসবে।