• বিনোদন
  • অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ: দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা গানবাংলার তাপসের ওপর

অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ: দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা গানবাংলার তাপসের ওপর

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ: দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা গানবাংলার তাপসের ওপর

তদন্তের স্বার্থে তাপস ও তার পরিবারের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ আদালতের; সিআইডির আবেদনে বড় আইনি বিপাকে এই আলোচিত সঙ্গীত প্রযোজক।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘গানবাংলা’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) ও বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী কৌশিক হোসেন তাপসের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। একইসঙ্গে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা আয়কর নথি (Income Tax Records) জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থ পাচার (Money Laundering) এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (CID) আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সিআইডির পদক্ষেপ

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিআইডির উপ-পরিদর্শক (SI) মেহেদী হাসান তাপসের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (PP) ওমর ফারুক ফারুকী রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কৌশিক হোসেন তাপসের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের যে অনুসন্ধান চলছে, তা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় তিনি দেশত্যাগ করলে পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া ও অনুসন্ধান কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার বিদেশ যাত্রা রোধ করা জরুরি।

আয়কর নথি জব্দের নেপথ্য কারণ

আদালতে পেশ করা অপর এক আবেদনে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাপস ও তার পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির তথ্য চেয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। অধিকাংশ দপ্তর থেকে তথ্য পাওয়া গেলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) থেকে তাপস, তার স্ত্রী ও সন্তানদের আয়কর নথি পাওয়া সম্ভব হয়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তার মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তির আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত চিত্র এবং সম্পদের উৎস যাচাইয়ের জন্য এই Income Tax নথিগুলো বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য। আদালতের আদেশের ফলে এখন থেকে তদন্তকারী সংস্থা এই গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করতে পারবে।

বিতর্ক ও আইনি জটিলতায় তাপস

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই সঙ্গীতকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অর্থ পাচারের প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। সিআইডির দাবি, তাপসের অর্জিত সম্পদের একটি বড় অংশের স্বপক্ষে কোনো বৈধ উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তাপসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই নানা অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং জুন মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে নতুন করে এই দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও নথি জব্দের আদেশ তার জন্য বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাফল্যের শিখর থেকে আদালতের কাঠগড়ায়

২০১৩ সালে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ সুরকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন কৌশিক হোসেন তাপস। দেশি-বিদেশি মিউজিশিয়ানদের নিয়ে তার স্বপ্নের প্রজেক্ট ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ (Wind of Change) বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছিল। ২০১৮ সালে তিনি সম্মানজনক ‘দাদাসাহেব ফালকে এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পান। তবে রাজনৈতিক সংযোগের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দিন ঢাকার প্রগতি সরণিতে অবস্থিত তার চ্যানেল ‘গানবাংলা’র প্রধান কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়।

বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ পাচারের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার আয়কর নথি পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আদালত সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

Tags: money laundering travel ban income tax cid nbr court news gaan bangla kaushik hossain taposh wind of change digital news