২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে থাকাকালীন কেন জামায়াতের মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেননি—বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এমন প্রশ্নের সরাসরি ও কৌশলগত জবাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, অন্তত তিনটি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং জনগণের আস্থার ঠিকানা হিসেবে গড়ে তুলতেই তারা সরকার ছেড়ে যাননি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ঐতিহাসিক সততার দাবিতে শফিকুর রহমান
সম্প্রতি ময়মনসিংহের এক জনসভায় তারেক রহমান প্রশ্ন তুলেছিলেন, বিএনপি যদি ‘দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন’ হয়ে থাকে, তবে জামায়াতের দুই মন্ত্রী কেন তখন পদত্যাগ করেননি? এই প্রসঙ্গের অবতারণা করে শফিকুর রহমান বলেন, “দু-একজন নেতা বলছেন—আপনারা এত সৎ ছিলেন তো ছেড়ে গেলেন না কেন? আমরা ছেড়ে যাইনি এ কারণে যে, অন্তত তিনটি মন্ত্রণালয় যেন দুর্নীতির হাত থেকে বেঁচে যায়। বাংলাদেশের মানুষের মনে যেন একটি আস্থার জায়গা তৈরি হয়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ওই সময় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ কেউ তুলতে পারেনি। এটি জামায়াতের ‘Governance’ ও নৈতিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত বলে তিনি দাবি করেন।
চাঁদাবাজি ও অর্থনৈতিক সংস্কারের কঠোর বার্তা
নির্বাচনী জনসভায় দেশের অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজি নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে দেশের ‘Economic Growth’ লাফিয়ে বাড়বে। অথচ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি করে নিজেকে চাঁদাবাজ বলতে বারণ করা হচ্ছে—এটি দ্বিচারিতা। যারা চাঁদাবাজি করবেন, তাদের চাঁদাবাজ হিসেবেই অভিহিত করা হবে।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াতসহ ১১-দলীয় ঐক্য ক্ষমতায় যেতে পারলে নির্বাচনের পরদিন অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশের চিত্র আমূল বদলে যাবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৯০ শতাংশ চাঁদাবাজের হাত অবশ করে দেওয়া হবে। বাকি ১০ শতাংশকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র অত্যন্ত নির্দয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে। চাঁদাবাজ কার স্বজন, সেটি দেখা হবে না।”
নির্বাচনী পরিবেশ ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
চলমান নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে সহিংসতা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে, অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এসব ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের পরিপন্থী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন (EC) এবং সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে ব্যর্থতার দায়ভার আপনাদেরই নিতে হবে।” প্রতিপক্ষের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, যেন গালভরা গণতন্ত্রের বুলির বদলে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পথে হাঁটা হয় এবং অন্যকে শ্রদ্ধা করা হয়।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের হাতে তাদের দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দিয়ে ভোটারদের কাছে দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করেন।