বনগাঁর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে টলিউড অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তীকে (Mimi Chakraborty) হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে অবশেষে পুলিশি জালে ধরা পড়লেন মূল অভিযুক্ত জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রী। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে স্থানীয় পুলিশ। তবে এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তের অনুগামী ও একদল স্থানীয় বাসিন্দা পুলিশের পথ আটকে বিক্ষোভ দেখালে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও মিমির অভিযোগ
ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ জানুয়ারি রাতে বনগাঁর একটি অনুষ্ঠানে। অভিযোগ অনুযায়ী, মিমি চক্রবর্তী যখন মঞ্চে পারফর্ম করছিলেন, তখন হঠাৎ করেই সেখানে উপস্থিত জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রী তাঁকে চরম অপদস্থ ও হেনস্তা করেন। মিমির দাবি, কোনো প্ররোচনা ছাড়াই তাঁকে মঞ্চ ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত অবমাননাকর আচরণ করা হয়। ঘটনার পরপরই অভিনেত্রী আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটেন এবং সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মিমি চক্রবর্তী একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, "অন্যায় যে করেছে, তাকে শাস্তি পেতেই হবে। একজন মহিলাকে হেনস্তার মতো গুরুতর বিষয়কে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে নানা অজুহাতে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে রটানো হচ্ছে যে আমি দেরিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু আসল সত্যটা অন্যরকম।"
ক্লাব কর্তৃপক্ষের পালটা দাবি ও সময়সীমার বিতর্ক
এদিকে জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রীর গ্রেফতারির পর মুখ খুলেছেন আয়োজক ক্লাবের কর্মকর্তারা। ক্লাব কর্মকর্তা রাহুল বসু ও শোভন দাসের দাবি, মিমির অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁদের মতে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে প্রশাসনের কঠোর নির্দেশ ছিল রাত ১২টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার।
আয়োজকদের দাবি, "মিমি চক্রবর্তী নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর, অর্থাৎ রাত সাড়ে ১১টায় মঞ্চে ওঠেন। ঠিক রাত ১২টায় প্রশাসনের সময়সীমা মানতে আমরা মাইক্রোফোন ও অনুষ্ঠান বন্ধ করার ঘোষণা দিই। এতেই হয়তো অভিনেত্রী অপমানিত বোধ করেছেন, কিন্তু তাঁকে কোনোভাবেই সশরীরে হেনস্তা করা হয়নি। তাঁকে সসম্মানেই বিদায় জানানো হয়েছিল।"
পুলিশি তৎপরতা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি
মিমি চক্রবর্তীর দায়ের করা এফআইআর-এর (FIR) ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে বনগাঁ পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখার পর বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত জ্যোতিষীকে তাঁর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, গ্রেফতারির সময় অভিযুক্তের সমর্থকরা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ধরে ব্যাপক স্লোগান ও ইটপাটকেল ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জের পথে হাঁটতে হয় এবং দুই বিক্ষোভকারীকে কাস্টডিতে (Custody) নেওয়া হয়।
অভিনেত্রীর কড়া বার্তা
মিমি চক্রবর্তী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পেশাদারিত্বের খাতিরে তিনি সবসময় সময়ের মর্যাদা দেন। তিনি জানান, মঞ্চে থাকাকালীন তনয় শাস্ত্রী অহেতুক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিলেন। চাপের মুখে পড়েও তিনি দর্শকদের সম্মান জানিয়ে 'গুড নাইট' (Good Night) বলে মঞ্চ ছাড়েন। অভিনেত্রীর কথায়, "নারী নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস নয়, সত্য আড়াল করার চেষ্টা সফল হবে না।"
বর্তমানে অভিযুক্ত তনয় শাস্ত্রীকে আদালতে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে ওই রাতে মঞ্চের উপর ঠিক কী কী কথা কাটাকাটি হয়েছিল এবং হেনস্তার মাত্রা কতখানি ছিল। এই ঘটনাটি টলিউডের অন্দরে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে জনবহুল অনুষ্ঠানে সেলিব্রিটিদের নিরাপত্তা (Security) নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠে গেল।