লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা ১৬৮ রানের একটি লড়াকু স্কোর গড়ে তোলে। জবাবে অস্ট্রেলিয়া চেষ্টা করলেও ১৪৬ রানের বেশি করতে পারেনি। ফলে ২২ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলটি।
পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে সাইম আইয়ুবের ঝড়
পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুটা ছিল কিছুটা দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম বলেই সাহিবজাদা ফারহান শূন্য রানে আউট হয়ে গেলে একপ্রকার চাপ সৃষ্টি হয়। তবে তরুণ ওপেনার সাইম আইয়ুব সেই চাপকে একাই উড়িয়ে দেন। তিনি আগ্রাসী ব্যাটিং করে মাত্র ২২ বলে ৪০ রান করেন, যার মধ্যে ছিল তিনটি চার ও দুটি ছক্কা। বিশেষ করে অ্যাডাম জামপাকে করা তাঁর আক্রমণাত্মক শটগুলো ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।
সাইমের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক সালমান আলী আঘা ও বাবর আজম। এই জুটি ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে স্থিরতা আনেন। সালমান ২৭ বলে ৩৯ রানের ইনিংসে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের ওপর চাপ ধরে রাখেন। বাবর আজম ২০ বলে তুলনামূলক সংযত ২৪ রান করেন। মিডল অর্ডারে ফখর জামান ১৬ বলে ১০ রান করে দ্রুত বিদায় নিলে রানের গতি কিছুটা কমে আসে। উসমান খানের ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ১৮ রান। শেষ দিকে মোহাম্মদ নওয়াজ ১৪ বলে ১৫ রান করে দলকে ১৬৮-তে পৌঁছে দেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে অ্যাডাম জাম্পা ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন। জেভিয়ার বার্টলেট ও মাহলি বিয়ার্ডম্যান দুটি করে উইকেট পান।
অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়ায় আবরার-সাইমের জাদু
১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা দ্রুত হলেও স্থায়ী হয়নি। ম্যাথু শর্ট মাত্র ৫ রান করে ফিরে যান। এরপর অধিনায়ক ট্রাভিস হেড ১৩ বলে ২৩ রান করে কিছুটা আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকলেও সাইম আইয়ুবের বলেই ক্যাচ দিয়ে আউট হন। পাওয়ারপ্লেতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া চাপে পড়ে। ক্যামেরন গ্রিন মাঝের ওভারগুলোতে ৩১ বলে ৩৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও তা যথেষ্ট ছিল না। ম্যাট রেনশ ও মিচেল ওয়েন ছোট ইনিংস খেললেও কেউই বড় অবদান রাখতে পারেননি। স্পিন বোলার আবরার আহমেদ আক্রমণে এসে নিজের জাদু দেখান, ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়া কার্যত থামিয়ে দেন তিনি। শেষ দিকে জেভিয়ার বার্টলেট ২৫ বলে ৩৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেও ততক্ষণে প্রয়োজনীয় রান রেট নাগালের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রানে থামে। পাকিস্তানের পক্ষে আবরার ও সাইম দু'টি করে উইকেট নেন। শাদাব খান ও মোহাম্মদ নওয়াজ একটি করে উইকেট পান।
ম্যাচসেরা অলরাউন্ডার সাইম আইয়ুব
ব্যাট হাতে দলের সর্বোচ্চ রান (৪০) করার পাশাপাশি বল হাতেও এদিন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন সাইম আইয়ুব। তাঁর এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারটি নিজের করে নেন এই তরুণ ক্রিকেটার। এই জয় বিশ্বকাপে তাদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের আগে অন্য দলগুলোকে একটি বার্তা দিয়ে রাখল। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ আগামী ৩১ জানুয়ারি লাহোরেই অনুষ্ঠিত হবে।