অদম্য জেদ আর আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে নারী এশিয়ান কাপের ‘Global Stage’-এ পা রেখেছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। কয়েক বছর আগেও যা ছিল অলীক কল্পনা, আজ তা ধ্রুব সত্য— এশিয়ার সেরা মঞ্চে লড়তে এখন ক্যাঙ্গারুর দেশ অস্ট্রেলিয়ায় সাবিনা-আফঈদারা। শুক্রবার রাতে সিডনি পৌঁছানোর পর শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালেই প্রথম দিনের অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছেন কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি থাকলেও অনুশীলনে মেয়েদের শরীরী ভাষায় ছিল ইতিহাস গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়।
স্বপ্নযাত্রার শুরু: সিডনিতে প্রথম প্রহর বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে উড়াল দিয়ে দীর্ঘ যাত্রা শেষে শুক্রবার সিডনি পৌঁছায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বিমানবন্দর থেকে টিম হোটেলে পৌঁছাতে বেজে যায় রাত ১২টা। বিশ্রামের জন্য হাতে খুব বেশি সময় ছিল না, কিন্তু প্রতিযোগিতার গুরুত্ব অনুধাবন করে পরদিন সকালেই মাঠে নেমে পড়েন ফুটবলাররা। সিডনির বিখ্যাত ‘Valentine Sports Park’-এ সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলে প্রথম দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। মূলত অস্ট্রেলিয়ার ভিন্ন আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং ‘Jet Lag’ কাটিয়ে ওঠাই ছিল আজকের সেশনের মূল লক্ষ্য।
মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ ও কোচের রণকৌশল মেগা এই টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশ দল দেশের মাটিতে সেভাবে মানসম্মত প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি। ফলে এশিয়ান কাপ শুরুর আগে হাতে থাকা এই ১০ দিনকেই তুরুপের তাস মানছেন কোচ পিটার বাটলার। বাফুফের পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় গোলরক্ষক কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল বলেন, "ভ্রমণজনিত ক্লান্তি তো কিছুটা আছেই, তবে আল্লাহর রহমতে আমাদের কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই। খেলোয়াড়রা শারীরিকভাবে ফিট আছে এবং আবহাওয়া বা ‘Conditions’-এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কের সুযোগ-সুবিধা বা ‘Facilities’ বিশ্বমানের। একটি পেশাদার ফুটবল দলের জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবটুকুই এখানে মজুত। ফলে অনুশীলন নিয়ে আমাদের কোনো প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না।"
চীনের বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষা আগামী ৩ মার্চ শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়ান কাপের মূল মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। এশিয়ার ফুটবলে চীন এক মহাশক্তি, যাদের বিপক্ষে লড়াই করতে হলে কেবল ফুটবলীয় কৌশল নয়, বরং মানসিক দৃঢ়তাও অপরিহার্য। পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের অভাব ঘোচাতে সিডনির এই ক্যাম্পটিকেই ‘Tactical Training’ এবং ফুটবলারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাটলার।
বাস্তব যখন স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায়। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে এশিয়ার সেরা আট দলের কাতারে জায়গা করে নেওয়াটা কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়। সিডনির সবুজ ঘাসে আজ যখন আফঈদা-ঋতুপর্ণারা বুটের ছাপ ফেলছিলেন, তখন কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং কোটি বাঙালির প্রত্যাশার ভার ছিল তাঁদের কাঁধে।
এখন দেখার বিষয়, সিডনির এই ১০ দিনের কঠোর পরিশ্রম ৩ মার্চ চীনের বিপক্ষে বাঘিনীদের কতটা ‘Competitive’ করে তুলতে পারে। বাংলার মেয়েরা কি পারবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নতুন কোনো ইতিহাস লিখতে? উত্তর মিলবে সময়ের সাথে।