বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের মানচিত্রে এক নতুন ও সোনালি অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে এবার এশিয়ার সর্বোচ্চ ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে লড়তে প্রস্তুত বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। এএফসি (AFC) নারী এশিয়ান কাপে অংশ নিতে দীর্ঘ বিমান যাত্রা শেষে এখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অবস্থান করছেন সাবিনা-ঋতুপর্ণারা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা ত্যাগের পর শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সিডনিতে পা রাখে পিটার বাটলারের শিষ্যরা।
অভিজ্ঞতা বনাম অদম্য স্পৃহা: অসম লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে, আফঈদা খন্দকার ও ঋতুপর্ণা চাকমাদের নিয়ে গড়া জাতীয় দলটি নিরাপদে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছে। এবারের সফরটি কেবল একটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নয়, বরং বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ‘গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড’ (Global Standard) প্রমাণের এক অগ্নিপরীক্ষা। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ যারা, তাদের ফুটবল ঐতিহ্য ও সাফল্য বাংলাদেশের তুলনায় যোজন যোজন এগিয়ে। ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন এবং ৩ বারের শিরোপাজয়ী উত্তর কোরিয়ার মতো বিশ্বখ্যাত পরাশক্তিদের মোকাবিলা করতে হবে বাঘিনীদের। তবে র্যাঙ্কিং বা শক্তির বিচার যাই হোক, মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে বদ্ধপরিকর এই অদম্য দলটি।
কন্ডিশনিং ও রণকৌশল: কোচের মাস্টারপ্ল্যান
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন ও আবহাওয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে (Acclimatization) টুর্নামেন্ট শুরুর বেশ কিছুদিন আগেই সেখানে পৌঁছেছে দল। ১ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরের আগে স্থানীয় একটি ক্লাবের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে কোচ পিটার বাটলারের। আধুনিক ফুটবলের ‘Tactical Execution’ এবং শারীরিক সক্ষমতা বা ‘Match Fitness’ বজায় রাখতে এই কদিন সিডনির ক্যাম্পে নিবিড় অনুশীলনে ঘাম ঝরাবেন খেলোয়াড়রা।
গোলরক্ষক স্বর্ণা রানী মণ্ডল ভক্তদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "ফলাফল যাই হোক, আমরা চাই দেশের মানুষ আমাদের পাশে থাকুক। এশিয়ার এই বিশাল মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা আমাদের জন্য পরম গৌরবের।"
মাঠের লড়াইয়ের সূচি: সিডনি থেকে পার্থ
আগামী ৩ মার্চ সিডনিতে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের এশিয়ান কাপ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর একই ভেন্যুতে উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে লড়তে দল উড়াল দেবে পার্থে। ফুটবলের এই উচ্চস্তরের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের মধ্যে নিখুঁত ‘Coordination’ বজায় রাখা হবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
রাষ্ট্রীয় অভিনন্দন ও নারী শক্তির জাগরণ
নারী দলের এই ঐতিহাসিক যাত্রায় শুভকামনা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এটি এক গৌরবময় মুহূর্ত। আমাদের মেয়েরা বারবার প্রমাণ করেছে যে অদম্য ইচ্ছা থাকলে যে কোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। দক্ষিণ এশিয়ার সীমানা পেরিয়ে তারা আজ এশিয়ার সেরা দলগুলোর মুখোমুখি। এটি কেবল খেলা নয়, আমাদের নারী শক্তির অগ্রযাত্রার প্রতিফলন।"
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ফুটবলপ্রেমীরা এখন প্রহর গুনছেন ১ মার্চের। বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে লাল-সবুজের পতাকাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই শুরু হচ্ছে এই স্বপ্নযাত্রা।