• ব্যবসায়
  • দীর্ঘ ১৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান: করাচির আকাশে ফের ডানা মেলল ‘বিজি’র বিমান

দীর্ঘ ১৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান: করাচির আকাশে ফের ডানা মেলল ‘বিজি’র বিমান

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
দীর্ঘ ১৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান: করাচির আকাশে ফের ডানা মেলল ‘বিজি’র বিমান

ঢাকা-করাচি-ঢাকা রুটে সরাসরি আকাশপথের সংযোগ পুনঃস্থাপন করল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স; প্রথম ফ্লাইটেই সব টিকিট বিক্রি।

দীর্ঘ ১৪ বছরের এক সুদীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথ ঢাকা-করাচি রুটে ফের ডানা মেলল রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স (Biman Bangladesh Airlines)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে করাচির উদ্দেশ্যে বিমানের প্রথম ফ্লাইটটি উড্ডয়নের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হয়।

প্রথম ফ্লাইটেই ‘হাউসফুল’: বিপুল সাড়ায় আশাবাদী বিমান

বিমানের দায়িত্বশীল সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রথম দিনেই ঢাকা-করাচি ফ্লাইটের প্রতি যাত্রীদের আকাশচুম্বী আগ্রহ দেখা গেছে। উদ্বোধনী ফ্লাইটের প্রতিটি টিকিটই বিক্রি হয়ে গেছে, যাকে এভিয়েশন সেক্টরে (Aviation Sector) একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (Jinnah International Airport) উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে। ১ হাজার ৪৭১ মাইলের এই আকাশপথ পাড়ি দিয়ে স্থানীয় সময় রাত ১১টায় ফ্লাইটটির করাচি পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ফিরতি ফ্লাইটটি করাচি থেকে রাত ১২টায় রওনা দিয়ে পরদিন ভোর ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করবে।

পরীক্ষামূলক পরিচালনা ও কৌশলগত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা

বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে (Experimental Basis) শুরু করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই ‘ট্রায়াল পিরিয়ড’ (Trial Period) চলবে। এই দুই মাসে ফ্লাইটের লোড ফ্যাক্টর (Load Factor), বাজার চাহিদা এবং বাণিজ্যিক লাভজনকতা (Profitability) গভীরভাবে বিশ্লেষণ করবে বিমান কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক এই সময়ের পারফরম্যান্স ও ডেটা অ্যানালাইসিসের (Data Analysis) ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতে এই রুটে নিয়মিত এবং দীর্ঘমেয়াদী ফ্লাইট অপারেশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাপ্তাহিক সূচি ও কানেক্টিভিটির সম্ভাবনা

প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুই দিন—বৃহস্পতিবার ও শনিবার—ঢাকা-করাচি-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ ১৪ বছর পর এই সরাসরি আকাশপথ সংযোগ চালুর ফলে উভয় দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ, পর্যটন এবং ট্রানজিট প্যাসেঞ্জারদের (Transit Passengers) জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে রিজিওনাল কানেক্টিভিটি (Regional Connectivity) বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ফিরে দেখা: ১৪ বছর আগের ইতিবৃত্ত

উল্লেখ্য, এক সময় ঢাকা-করাচি রুটটি বিমানের অন্যতম ব্যস্ত রুট হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক কারণে প্রায় ১৪ বছর আগে এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর বিমানের এই প্রত্যাবর্তনের ফলে যাত্রীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। বিমানের মার্কেটিং এবং সেলস ডিপার্টমেন্টের (Marketing and Sales Department) মতে, যদি যাত্রী চাহিদা এভাবে বজায় থাকে, তবে শীঘ্রই ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংস্থাটির এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের অন্যতম সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, দুই মাসের এই ট্রায়াল পিরিয়ড শেষে বিমান এই রুটে কতটা স্থায়ীভাবে নিজের অবস্থান শক্ত করতে পারে।

Tags: south asia aviation news biman bangladesh dhaka karachi flight operations direct flight karachi airport biman airlines travel update regional connectivity