দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। পূর্বের সব রেকর্ড চুরমার করে দিয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে এই দুই ধাতুর বাজারদর (Market Value)। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)-এর ঘোষণা অনুযায়ী, আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) থেকে নতুন এই কার্যকর হয়েছে। মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়া স্বর্ণের এই দাম বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন উল্লম্ফন
গত ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভরিপ্রতি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এক দফায় ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি।
নতুন এই মূল্য তালিকা অনুযায়ী:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি স্বর্ণ এখন বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকায়।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা।
রুপার দামেও নতুন ইতিহাস
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ৮১৬ টাকা বেড়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা এখন বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার ৫৭৩ টাকায়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে রুপার সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৮ হাজার ১৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৬ হাজার ৯৯৮ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
ভ্যাট ও মজুরির অতিরিক্ত চাপ
ক্রেতাদের মনে রাখা প্রয়োজন, বাজুস নির্ধারিত এই দামের বাইরেও গয়না কেনার সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫ শতাংশ ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (VAT) এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি (Making Charge) প্রদান করতে হবে। গয়নার নকশা (Jewelry Design) ও মানভেদে এই মজুরির তারতম্য হতে পারে। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি গয়না কিনতে ক্রেতাকে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে আরও অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত গুণতে হবে।
মূল্যবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে অস্থিরতার চিত্র
২০২৬ সালের শুরু থেকেই স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। চলতি বছর মাত্র এক মাসে ১৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালেও দেশের বাজারে ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বারই ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় বাজারে ‘তেজাবি স্বর্ণের’ সংকটকে এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি এবং ডলারের বিনিময় হারের প্রভাব সরাসরি স্বর্ণের বাজারের ওপর পড়ছে। যারা এই মুহূর্তে গয়না তৈরির পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই রেকর্ড দাম এক বিশাল বড় ধাক্কা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।