বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বিদেশের মাটিতে বসেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন প্রবাসীরা। নির্বাচন কমিশন (EC) জানিয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এরই মধ্যে সোয়া ৪ লাখেরও বেশি প্রবাসী ভোটার তাদের ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই দ্বিমুখী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা।
অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাধিকার: পরিসংখ্যানের সমীকরণ
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ (Postal Vote BD) মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের ভোটদানের সর্বশেষ তথ্যাদি প্রকাশ করা হয়। ইসি প্রতিনিধি সালীম আহমাদ খান জানান, ২৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসী ভোটার এই বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত (Registration) হয়েছেন।
ইসি জানায়, নিবন্ধিত সকল প্রবাসীর গন্তব্যের দেশে এরই মধ্যে ডিজিটাল ও শারীরিক মাধ্যমে ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯২০ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৮ জন প্রবাসী তাদের ভোটদান প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রবাসীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডাকযোগে ফেরার অপেক্ষায় ব্যালট
ভোট দেওয়ার পর সেই ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটিও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভোট সম্পন্নকারী প্রবাসীদের মধ্যে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৩২২ জন সংশ্লিষ্ট দেশের স্থানীয় পোস্ট অফিস বা নির্ধারিত ডাক বাক্সে তাদের ব্যালট জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ২১ হাজার ৫০৮ জন প্রবাসীর ব্যালট এরই মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে এসে পৌঁছেছে। বাকি ব্যালটগুলো বর্তমানে ট্রানজিটে রয়েছে যা নির্বাচনের মূল ক্ষণ গণনার আগেই দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিজিটাল নিবন্ধনে বড় সাফল্য
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দেওয়ার জন্য দেশে এবং বিদেশে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নাম নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা অর্ধেকের কাছাকাছি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ‘পোস্টাল ভোট’ (Postal Vote) প্রক্রিয়ায় মোবাইল অ্যাপের অন্তর্ভুক্তি নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আধুনিক করে তুলেছে। বিশেষ করে কর্মব্যস্ত প্রবাসীরা যারা সশরীরে দেশে এসে ভোট দিতে পারেন না, তাদের জন্য এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গণতান্ত্রিক অধিকার (Democratic Right) চর্চায় এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রবাসীদের এই বিপুল অংশগ্রহণ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।