দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণ—সর্বত্র শীতের দাপট কিছুটা স্তিমিত মনে হলেও এখনই স্বস্তির সুযোগ দেখছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর। বরং নতুন এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা ফের কমতে শুরু করবে, যা শীতের আমেজকে আবারও তীব্র করে তুলতে পারে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা বা ৫ দিনের জন্য দেওয়া এক বিশেষ পূর্বাভাসে (Weather Forecast) এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
তাপমাত্রার ওঠানামা ও ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আগামী ৫ দিন দেশজুড়ে তাপমাত্রার গ্রাফে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। এই সময়ের মধ্যে তাপমাত্রা কখনো কমবে, কখনো অপরিবর্তিত থাকবে, আবার কোনো কোনো অঞ্চলে কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সামগ্রিক প্রবণতা শীত বাড়ার দিকেই নির্দেশ করছে।
সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, শুক্রবার ও শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা (Minimum Temperature) সামান্য হ্রাস পেতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি রোববার দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকলেও ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে আবারও রাতের পারদ নামতে শুরু করবে। এই নিম্নমুখী তাপমাত্রার কারণেই সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে শীতের দাপট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ও কুয়াশার দাপট
আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে, যা ছিল ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের জনপদে শীতের এই তীব্রতা ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৫ দিন অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। তবে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা (Fog) পড়তে পারে, যা সড়ক ও নৌপথে দৃষ্টিসীমা কমিয়ে আনতে পারে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা (Synoptic Situation)
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের (High-pressure Ridge) বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তার আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। অন্যদিকে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ (Low Pressure) দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের কারণেই মূলত তাপমাত্রার এমন বিচিত্র আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পরবর্তী পাঁচ দিনের জন্য আবহাওয়ার বড় কোনো আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও শীতের এই ফের আগমনে জনজীবনে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে শীতকালীন রোগের প্রকোপ থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।