• রাজনীতি
  • শহীদের অবদানকে উপহাস বা অস্বীকার করা লজ্জাজনক: জামায়াত আমির

শহীদের অবদানকে উপহাস বা অস্বীকার করা লজ্জাজনক: জামায়াত আমির

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
শহীদের অবদানকে উপহাস বা অস্বীকার করা লজ্জাজনক: জামায়াত আমির

যারা জুলাইশহীদদের অবদানকে অস্বীকার করে বা উপহাস করে, তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে জানে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, উপকারীর উপকার স্বীকার না করা লজ্জাজনক।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

লক্ষ্মীপুরের মাটি ও ঘাস একসময় শহীদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লব এসেছিল বলেই আজ আমরা প্রাণখুলে কথা বলতে পারছি। যারা এই শহীদদের অবদানকে অস্বীকার করে বা উপহাস করে, তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে জানে না।

উপকারীর উপকার স্বীকার না করা লজ্জাজনক। জামায়াত আমির বলেন, জনগণ চাঁদাবাজি এবং মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠনের রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। এই পরিবর্তনের জন্য আসন্ন নির্বাচনে প্রথমে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মেরে জনমত দেবেন এবং পরবর্তীতে ১১ দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করবেন।

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি ও ‘মামলাবাণিজ্য’ মুক্ত বাংলাদেশ গড়বে।

পাচার হওয়া অর্থ প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদেশে পাচার করা টাকা সংশ্লিষ্টদের পেটের ভেতর থেকে বের করে আনা হবে এবং সেই টাকা দিয়েই দেশের উন্নয়ন করা হবে।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, আমরা তোমাদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করতে চাই না, বরং প্রত্যেকের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। দেশের নেতৃত্ব যুবকদের হাতে ছেড়ে দিয়ে আমরা পেছন থেকে শক্তি জোগাতে চাই।

তিনি বলেন, আমাদের জোটের মনোনীত প্রার্থীদের ৬২ শতাংশই যুবক।

আন্দোলনে নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা জাতি ভুলে যায়নি। মা-বোনদের সম্মান রক্ষায় প্রয়োজনে আমরা জীবন দেব। যারা নিজের মাকে সম্মান করতে জানে না, তারা অন্যের মাকেও সম্মান দিতে পারে না।

তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।

লক্ষ্মীপুরের আঞ্চলিক সমস্যাগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, এশিয়ার বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে এবং মেঘনা নদীর বাঁধের টাকা লোপাট হয়েছে।

দেশের সব ইসলামী ধারার (কওমি, আলিয়া, তাবলিগ) মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কওমি মাদরাসা আমাদের কলিজা। আমাদের মাঝে বিরোধ সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।

বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, বিদেশে আমাদের বন্ধু থাকবে, কিন্তু কোনো প্রভু থাকবে না।

জামায়াতের জেলা আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবিবসহ জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।