পেশাগত প্রশিক্ষণে মানবিকতার শিক্ষা
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফারজানা নাসরীন খান-এর জীবনে থাইল্যান্ডে পাওয়া একটি ছোট মানবিক শিক্ষা কীভাবে বাংলাদেশে তার আচরণে বড় পরিবর্তন এনেছিল, সেই গল্প তুলে ধরেছেন। ২০০০ সালে পেশাগত প্রশিক্ষণের জন্য শ্যামদেশ থাইল্যান্ডে যাওয়ার পর সেখানকার গাইড 'নি'-এর একটি কাজ তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
থাইল্যান্ডের শিক্ষা: 'নি'-এর নির্বিকার মানবিকতা
ব্যাংকক নগরীতে মিনিবাসে চড়ার সময় লেখক লক্ষ করেন, মিনিবাসে সিট পাওয়ার পরও:
প্রথম ঘটনা: একজন বয়স্ক নারী উঠলে গাইড 'নি' নির্বিকারভাবে উঠে তাঁকে বসতে দেন।
দ্বিতীয় ঘটনা: কিছুক্ষণ পরে একজন বয়স্ক ভদ্রলোক উঠলে 'নি' আবারও উঠে দাঁড়ান এবং ভদ্রলোককে বসতে দেন।
লেখক মুগ্ধ হয়ে লক্ষ করেন, কলেজের গণ্ডি না পেরোনো থাই মেয়েটি নিজেকে একজন মেয়ে হিসেবে চিন্তা না করে 'একজন সুস্থ–কর্মক্ষম মানুষ হিসেবে ভাবতে পেরেছে', যা আমরা অনেক শিক্ষিত হয়েও পারছি না। সেই মুহূর্তে ভাষাগত সমস্যার কারণে নির কাছে তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে না পারলেও, বিষয়টি লেখকের মনে গভীরভাবে আলোড়ন তৈরি করে।
বাস্তবতার মুখোমুখি: দ্বিধাদ্বন্দ্বের ৫ বছর পর
ঘটনার পাঁচ বছর পর, ২০০৫ সালে, লেখক যখন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিতে অধ্যয়নরত, তখন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ভিড়ের মধ্যে একটি ঘটনার মুখোমুখি হন।
সংকট: ভিড়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারীর**' স্ত্রী ছোট বাচ্চা কোলে বাসে উঠলেন। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে বাচ্চাসহ ওই নারীটি ঠিকমতো দাঁড়াতে পারছিলেন না।
মানসিক দ্বন্দ্ব: লেখকের থাইল্যান্ডের সেই নির কথা মনে পড়ে যায়। নিজে উঠে বসতে দিতেচেয়ারম্যানের আইনে আছে'—বিতর্কের রেশে Administrative Action**
নেত্রকো ইচ্ছা করলেও "পরিচিত সহকর্মীরা কী বলবেন, কী ভাববেন"—এই ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। তার পুরুষ সহকর্মীরা ভালো ও মুক্ত মনের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও কেন এই বিষয়টাকে গুরুত্ব দেননি, তা নিয়েনার কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) মাসুদুর রহমানকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে একজন ইউনিয়ন পরিষদ (UP) চেয়ারম্যানের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনার পরপরই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে গতকাল মঙ্গলবার রাতে মাসুদুর রহমানকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় পদায়ন করা হয়েছে। তাকে আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে।
তার দ্বন্দ্বটা ছিল বেশি।
দ্বিধাদ্বন্দ্ব জয় ও Self-Reflection
শেষ পর্যন্ত সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ঝেড়ে সিদ্ধান্ত নিতে লেখকের খুব বেশি সময় লাগেনি, কিন্তু যেটুকু সময় লেগেছে, তাএর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানো লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানকে গত রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার বিভাগের এক চিঠিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় ছিল তার 'মানসিক সাহস ও দৃঢ়তার অভাবের' জন্য।
পরিবর্তন: বাচ্চাসহ কর্মচারীর স্ত্রীকে সিট ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সহকর্মীরাও তাঁকে বসতে দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে যান।
**।
ইউএনওকে কেন বদলি করা হয়েছে’
ইউএনওর বদলিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নানা মন্তব্য করছেন। গণ অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন ফেসবুকে লেখেন, ‘এই ইউএনওকে কেন বদলি করা হয়েছে এবং কোন ক্ষমতায় বদলি করা হয়েছে একজন নাগরিক হিসেবে এর উত্তর জানতে চাই। পাশাপাশি কারা তাঁকে বদলির জন্য সুপারিশ করেছে সেটিও জানতে চাই। আজকের মধ্যে তাঁকে কলমাকান্দা উপজেলায় বহাল করতে হবে এবং এটা করে রাষ্ট্রকে প্রমাণউপলব্ধি:** চলার পথে এরপর তিনি সবসময়ই বয়স্ক পুরুষ, নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষকে সিট ছেড়ে দিতে চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, **"অতীতের আমি আর বর্তমানের আমিতে যে তফাত, তা উপলব্ধি করতে পারি সহজেই করতে হবে রাষ্ট্র ন্যায় বিচারক। তাঁর বদলির বিষয়ে বিএনপির যদি কেউ জড়িত থাকে, সেটিও প্রকাশ করতে হবে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নেত্রকোণা কমিটির সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাহী ক্ষমতা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় এ ধরনের সংঘাত সৃষ্টি হয়। তাঁর মতে, কোনো ঘটনায় একের পর এক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাখ্যা প্রকাশ করা। বর্তমানের আমি অনেকটাই সাহসী ও কিছুটা মানবিকও বটে।"**