** ১২ ফেব্রুয়ারি - নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ**
পৃথিবীর ইতিহাসে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দেওয়া বাঙালি জাতি হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের জন্য একটি সাধারণ নির্বাচনের তারিখ নয়, বরং এটি নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার (Restoration of Civic Rights) এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই লড়াইয়ের একমাত্র নায়ক কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতা নন—নায়ক হলেন ভোটার নিজেই। এই নির্বাচন সেই সত্যটিকেই আমাদের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে যে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ভোটারই ক্ষমতার প্রকৃত উৎস (Real Source of Power)।
ব্যালটের ক্ষমতা: নীরব বিপ্লবের হাতিয়ার
গণতন্ত্রে ব্যালট কেবল একটি কাগজের টুকরো নয়; বরং এটি নীরব বিপ্লবের হাতিয়ার (Weapon of Silent Revolution)।
অন্যায়কে প্রত্যাখ্যান: এই ব্যালট দিয়েই চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, দখলবাজ, মাদক-সন্ত্রাসী, অন্যায়কারী কিংবা ঋণ খেলাপিদের রুখে দেওয়া যায়। ইতিহাস বলে—যখন মানুষ সচেতনভাবে ভোট দেয়, তখন সবচেয়ে শক্তিশালী অপশক্তিও পরাজিত হয়।
নেতার অসহায়ত্ব: হাজার কোটি টাকার মালিক, প্রভাবশালী রাজনীতিক বা ক্ষমতাধর ব্যক্তি নির্বাচনের সময় একজন সাধারণ ভোটারের দরজায় গিয়ে ভোট ভিক্ষা করেন। দিনের শেষে ভোটারের কাছেই তাকে ভোট ভিক্ষা করতে হয়। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করাই ১২ ফেব্রুয়ারির সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
ভোটারের দায়িত্ব: নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ
দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃত্বপরায়ণ শাসন, অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের কারণে মানুষের আস্থা বারবার নষ্ট হয়েছে এবং বহু মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সেই বঞ্চিত মানুষের জন্য একটি বড় সুযোগ।
নৈতিকতার পরীক্ষা: গণতন্ত্র কেবল সংখ্যার খেলা নয়; এটি নৈতিকতারও পরীক্ষা। এমন প্রার্থী বেছে নেওয়াই ভোটারের দায়িত্ব, যিনি বিতর্কমুক্ত, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত নন, দুর্নীতি ও মাদকের পৃষ্ঠপোষক নন।
ভুল নেতৃত্বের পরিণতি: ভুল নেতৃত্ব মানেই ভুল ভবিষ্যৎ। আজ যদি ভোটার অসচেতন হন, অর্থ, প্রলোভন বা ভয়ের কাছে হার মানেন—তবে এর ফল ভোগ করতে হবে পুরো একটি প্রজন্মকে। এই ভোট সমাজ কেমন হবে, রাষ্ট্র কোন পথে চলবে—তা নির্ধারণ করবে।
নির্বাচনী পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা
নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সহিংসতার (Violence) খবর সামনে আসা গণতন্ত্রের শত্রু। এই ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব অত্যন্ত বড়।
নিরাপত্তা ও বৈধতা: ভোটার যদি নিরাপদ বোধ না করেন, তবে ভোটের বৈধতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড: অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি শক্তিশালী করে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যদি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়, তবে তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি আস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা (Reaffirmation of Trust) হিসেবে বিবেচিত হবে।
লেখক আহ্বান জানিয়েছেন: "আবেগ নয়, যুক্তি; গুজব নয়, তথ্য; ভয় নয়, সাহস—এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।" এই নির্বাচনে কোনো দল নয়, প্রতিটি ভোটারই একেকজন নায়ক।