• দেশজুড়ে
  • মেহেরপুরে প্রেমের টানে এসে বিয়ে না করেই পালালেন দুই চীনা নাগরিক, বাড়ল মানব পাচারের উদ্বেগ

মেহেরপুরে প্রেমের টানে এসে বিয়ে না করেই পালালেন দুই চীনা নাগরিক, বাড়ল মানব পাচারের উদ্বেগ

ফেসবুক প্রেমের সম্পর্ক ধরে মেহেরপুরে এলেও স্থানীয়দের উদ্বেগ ও পুলিশের হস্তক্ষেপে বিয়ে না করেই ঢাকায় ফিরে যান দুই চীনা নাগরিক।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
মেহেরপুরে প্রেমের টানে এসে বিয়ে না করেই পালালেন দুই চীনা নাগরিক, বাড়ল মানব পাচারের উদ্বেগ

ফেসবুকে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্কের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে বিপাকে পড়ে বিয়ে না করেই পালিয়েছেন দুই চীনা নাগরিক। মেহেরপুর সদর উপজেলার টেংরামারি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং চীনা নাগরিকদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচিত 'প্রেমের টানে বিদেশিদের আগমন' প্রবণতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানব পাচারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ফেসবুক প্রেমের সূত্র ধরে আগমন শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে মেহেরপুর সদর থানাধীন আমদহ ইউনিয়নের টেংরামারি গ্রামে ওই দুই চীনা নাগরিক উপস্থিত হন। জানা যায়, তারা স্থানীয় মৃত লিটনের কন্যার সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করেন এবং সেই সূত্রেই এলাকায় আসেন।

জনগণের উদ্বেগ ও পুলিশের পদক্ষেপ চীনা নাগরিকদের আগমনের খবর দ্রুত জানাজানি হলে স্থানীয় জনগণ ও মেয়ের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই একজন স্থানীয় ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর '৯৯৯'-এ কল দেন। খবর পেয়ে সাহেবপুর ক্যাম্পের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ এরপর চীনা নাগরিকদের সঙ্গে মেয়ের পরিবারের আলোচনার আয়োজন করে এবং পারিবারিক সম্মতির ভিত্তিতে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তবে চীনা নাগরিকদ্বয় সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ঢাকায় ফেরত পাঠাল পুলিশ মেহেরপুর সদর থানার সাহেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই শফিক জানান, ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে চীনা নাগরিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি তাদের বুঝিয়ে দুপুর ২টার রয়্যাল এক্সপ্রেস পরিবহনে করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে আইনগতভাবে বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

'ভাইরাল' হওয়ার প্রবণতা ও মানব পাচারের ঝুঁকি মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আজম এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের টানে বিদেশিদের আগমনের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এমন ঘটনাগুলো দ্রুত ‘ভাইরাল’ হলেও, প্রেমের টানে বাংলাদেশি নারীরা বিদেশে পাচার হয়ে গেলে তাদের পরিণতি কী হয়, সে বিষয়ে কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বা ‘ফলো-আপ’ সাধারণত দেখা যায় না। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ভাইরাল’ হওয়ার আশায় অনেকেই বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ছেন এবং পরে বিয়ে করে তা অনলাইনে প্রকাশ করছেন, কিন্তু এর পরের বাস্তবতা অজানা থেকে যায়।

সরকার ও দূতাবাসের সতর্কতা উল্লেখ্য, র‍্যাব ও পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানে মানব পাচারচক্রের একাধিক সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পাচার হওয়া অনেক নারী চীনে পৌঁছানোর পর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। এই উদ্বেগের কারণে চীনা দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকার উভয়ই অবৈধ বিয়ে এবং মানব পাচার নিয়ে একাধিকবার সতর্কতা জারি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ নাগরিকদের যেকোনো বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে বা বিদেশে যাওয়ার প্রস্তাবের ক্ষেত্রে আইনগত যাচাই ও সরকারি অনুমোদন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক প্রস্তাব বা কার্যকলাপ নজরে এলে নিকটস্থ থানায় জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

Tags: bangladesh police viral news human trafficking marriage মেহেরপুর chinese national online romance