• আন্তর্জাতিক
  • গাজা যুদ্ধের উত্তাপের মাঝেই ইসরাইল ও সৌদি আরবে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

গাজা যুদ্ধের উত্তাপের মাঝেই ইসরাইল ও সৌদি আরবে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
গাজা যুদ্ধের উত্তাপের মাঝেই ইসরাইল ও সৌদি আরবে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ও ইরানের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার আবহে কয়েকশ কোটি ডলারের অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের; নজরদারিতে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনার এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ইসরাইল ও সৌদি আরবের কাছে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র বিক্রির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর (US State Department)। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কয়েকশ কোটি ডলারের এই প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস দিচ্ছে।

ইসরাইলের জন্য অত্যাধুনিক অ্যাপাচি ও সাঁজোয়া যান

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের কাছে ৩৮০ কোটি ডলার মূল্যের ৩০টি ‘অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার’ (Apache Attack Helicopter) বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ১শ ৮০ কোটি ডলার মূল্যের ‘জয়েন্ট লাইট ট্যাকটিক্যাল ভেহিকল’ (Joint Light Tactical Vehicle) বা আধুনিক বহুমুখী হালকা সামরিক যান বিক্রির প্রক্রিয়াও নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক অভিযানে ইসরাইলি বাহিনী ব্যাপকভাবে এই অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে থাকে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত ৭১ হাজার ৬৬২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে এই নতুন সমরাস্ত্র সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় একটি শক্তিশালী ও প্রস্তুত আত্মরক্ষামূলক সক্ষমতা (Self-defense capability) বজায় রাখতে ইসরাইলকে সহায়তা করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”

সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন শক্তি

ইসরাইলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের কাছেও বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। ৯০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা) মূল্যের ৭৩০টি ‘প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র’ (Patriot Missile) এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম পাচ্ছে রিয়াদ।

মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের স্থল বাহিনীকে রক্ষা করার ক্ষমতা বাড়বে। এটি মূলত ‘ইন্টিগ্রেটেড এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম’ (Integrated Air and Missile Defense System)-এর আওতায় সৌদি আরবের অবদানকে আরও শক্তিশালী করবে, যা মূলত ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ ও ট্রাম্পের কড়া বার্তা

যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরাইলকে বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিলেও, সরাসরি অস্ত্র বিক্রির এই অনুমোদনের তীব্র সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা (Human Rights Organizations)। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহ গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর ‘গণহত্যামূলক’ কার্যক্রমের সক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা ধারাবাহিকভাবে এই অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

অন্যদিকে, এই অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের সময়ই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের দিকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের একটি বিশাল বহর পাঠানো হয়েছে। তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান স্নায়ুযুদ্ধের মধ্যেই ইসরাইল ও সৌদি আরবকে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত করার এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে কোন পথে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

Tags: middle east saudi arabia us diplomacy regional tension israel defense weapon sales apache helicopter patriot missile