টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দামামা বাজার ঠিক আগমুহূর্তে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল অস্ট্রেলিয়া। স্কোয়াড পুনর্গঠনের শেষ দিনে এসে অভিজ্ঞ পেসার প্যাট কামিন্সকে ছাড়াই বিশ্বজয়ের অভিযানে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (CA)। চোটের কারণে কামিন্স ছিটকে যাওয়ায় ১৫ সদস্যের মূল দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। কামিন্সের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বেন ডারশুইস এবং ম্যাথু শর্টের পরিবর্তে দলে জায়গা করে নিয়েছেন অলরাউন্ডার ম্যাট রেনশ।
চোটের থাবায় স্বপ্নভঙ্গ কামিন্সের
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ প্যাট কামিন্স বেশ কিছুদিন ধরেই পিঠের ইনজুরিতে (Back Injury) ভুগছিলেন। মূলত অ্যাশেজ সিরিজের আগে থেকেই এই চোট তাকে ভোগাচ্ছিল। নির্বাচক কমিটি আশা করেছিলেন, বিশ্বকাপের আগেই তিনি পুরোপুরি রিকভারি (Recovery) করতে পারবেন, যার ভিত্তিতে ১ জানুয়ারি ঘোষিত প্রাথমিক স্কোয়াডে তাকে রাখা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত না মেলায় এবং ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় তাকে দল থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় টিম ম্যানেজমেন্ট। কামিন্সের মতো একজন অভিজ্ঞ ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’কে হারানো অজিদের রণকৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিগ ব্যাশ পারফরম্যান্সের পুরস্কার: দলে রেনশ ও ডারশুইস
কামিন্সের বদলে দলে আসা বেন ডারশুইস ঘরোয়া ক্রিকেটে বিশেষ করে বিগ ব্যাশ লিগে (Big Bash League - BBL) দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। সিডনি সিক্সার্সের হয়ে সদ্য সমাপ্ত আসরে ১১ ইনিংসে ১৬টি উইকেট শিকার করেছেন এই বাঁহাতি পেসার। ১৮.৮১ গড় এবং ৭.৮৫ ইকোনমি রেট বজায় রাখা ডারশুইসকে ডেড ওভার স্পেশালিস্ট (Death Over Specialist) হিসেবে বিবেচনা করছে দল।
অন্যদিকে, ম্যাথু শর্টকে সরিয়ে ম্যাট রেনশকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মূলত তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের কারণে। ব্রিসবেন হিটের হয়ে বিগ ব্যাশে ১০ ম্যাচে ১৫৩.৫৫ স্ট্রাইকরেটে (Strike Rate) ৩২৪ রান করে নজর কেড়েছেন তিনি। পাশাপাশি তার কার্যকরী অফস্পিন বোলিং দলের কম্বিনেশনে বাড়তি ভারসাম্য যোগ করবে। ১৯.৪০ গড়ে ৫ উইকেট নিয়ে রেনশ প্রমাণ করেছেন তিনি চাপের মুখে উইকেট তুলে নিতেও সক্ষম।
স্মিথ ট্র্যাজেডি ও ইনজুরি আপডেট
স্কোয়াড পরিবর্তনের আলোচনায় স্টিভ স্মিথের নাম বারবার উঠে আসলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচকদের মন জয় করতে পারেননি এই মহাতারকা। সিক্সার্সের হয়ে ৬ ম্যাচে ১৬৭.৯৭ স্ট্রাইকরেটে ২৯৯ রান করা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের টিকিট মেলেনি তার। নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান টনি ডোডমেইড জানিয়েছেন, বর্তমান টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের আগ্রাসী ব্যাটিং ডিমান্ডের কথা মাথায় রেখেই রেনশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তবে স্বস্তির খবর হলো, ইনজুরিতে থাকা টিম ডেভিড, নাথান এলিস এবং জশ হ্যাজেলউড বর্তমানে সম্পূর্ণ ফিট। তারা নির্ধারিত সময়েই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছে অজি বোর্ড।
বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড:
মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাট রেনশ, ক্যামেরন গ্রিন, টিম ডেভিড, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, কুপার কোনোলি, মার্কাস স্টোইনিস, জশ হ্যাজেলউড, নাথান এলিস, জাভিয়ের বার্টলেট, বেন ডারশুইস, অ্যাডাম জাম্পা ও ম্যাট কুনম্যান।