নেপালের কাঠমান্ডুর রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে যেন চলল এক গোলবর্ষণ। অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের (SAFF U-19 Women's Championship) উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানকে আক্ষরিক অর্থেই ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ৪ জাতির এই টুর্নামেন্টের শুরুতেই নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়ে ১২-০ গোলের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা (Defending Champions)।
শুরুতে প্রতিরোধ, শেষার্ধে গোলের ঘূর্ণিঝড়
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল (Aggressive Football) খেললেও ভুটানের রক্ষণভাগ ভাঙতে কিছুটা সময় লেগেছিল। প্রথম ২৮ মিনিট ভুটান কোনোমতে জাল অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়। তবে মামোনি চাকমা ডেডলক (Deadlock) ভাঙার পর থেকে চিত্রটা পুরোপুরি পাল্টে যায়। প্রথমার্ধের শেষ দিক থেকেই শুরু হয় আসল ‘গোল উৎসব’। প্রথমার্ধেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলার মেয়েরা।
তিন হ্যাটট্রিকে ইতিহাস: লাইমলাইটে মুনকি, তৃষ্ণা ও আলপি
এদিনের ম্যাচে বাংলাদেশের ফরওয়ার্ড লাইন ছিল অপ্রতিরোধ্য। দলের হয়ে একাই ৪টি গোল করে ম্যাচ সেরা পারফরম্যান্স (Player of the Match) উপহার দিয়েছেন মুনকি আখতার। এছাড়া নজর কেড়েছেন তৃষ্ণা রানি ও আলপি আক্তার; দুজনেই করেছেন দর্শনীয় হ্যাটট্রিক (Hat-trick)।
তৃষ্ণা রানি ম্যাচের ৪৩ মিনিটে প্রথম গোল পাওয়ার পর ৬০ মিনিটের মধ্যেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। অন্যদিকে, আলপি আক্তার তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের মতো ফুটবলেও ঝড় তোলেন ম্যাচের শেষভাগে। ৭৩, ৮৬ এবং ইনজুরি টাইমের (৯৩+৫ মিনিট) শেষ মুহূর্তে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। মুনকি তার ৪টি গোলের শেষ দুটি করেন ৮১ ও ৯০+৩ মিনিটে। এছাড়া গোলবন্যার মিছিলে যোগ দেন অর্পিতা বিশ্বাসও।
পরিসংখ্যান ও আধিপত্য: শিরোপার দাবিদার বাংলাদেশ
পুরো ম্যাচে ভুটানের মেয়েরা বাংলাদেশের গোলপোস্টে একটিও জোরালো শট নিতে পারেনি। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগ পর্যন্ত বাংলাদেশের যে আধিপত্য (Dominance) দেখা গেছে, তা টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলোর জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা। ক্লিনিশিয়াল ফিনিশিং (Clinical Finishing) এবং দুর্দান্ত পাসিং গেমের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রেখেছিলেন কোচ সাইফুল বারী টিটুর শিষ্যরা।
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে বাংলাদেশের রেকর্ড রীতিমতো ঈর্ষণীয়। বিগত ৬টি আসরের মধ্যে ৫ বারই শিরোপা জিতেছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। বিশেষ করে ২০২৪ সালে যৌথ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবার একক আধিপত্য বজায় রাখাই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। এমন ‘ফ্লাইং স্টার্ট’ (Flying Start) নিশ্চিতভাবেই দলকে মানসিকভাবে অনেক এগিয়ে রাখবে।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে আরও একটি শিরোপা ঘরে তোলা কেবল সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।