দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ও অভ্যন্তরীণ মজুত শক্তিশালী করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে গমের একটি বিশাল চালান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ৫৮ হাজার ৩৫৯ মেট্রিক টন গম নিয়ে ‘এমভি ডব্লিউএফ আর্টিমিস’ (MV. WF ARTEMIS) নামক জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে নোঙর করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত সমঝোতা স্মারকের (MOU) আলোকে এই আমদানি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
জি-টু-জি চুক্তির আওতায় খাদ্য সরবরাহ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের সরকারের মধ্যে সম্পাদিত ‘জি-টু-জি’ (G to G-02) নগদ ক্রয় চুক্তির আওতায় মোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার আসা ৫৮ হাজার ৩৫৯ মেট্রিক টনের এই চালানটি উক্ত চুক্তির তৃতীয় কিস্তি বা ‘Consignment’। এর মাধ্যমে দেশের বাজারে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
আমদানি কার্যক্রমের অগ্রযাত্রা
বর্তমানে চলমান এই চুক্তির আগে ‘জি-টু-জি-০১’ চুক্তির আওতায় ইতোমধ্যে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম সফলভাবে আমদানি সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান ‘জি-টু-জি-০২’ চুক্তির আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় চালানে মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ মেট্রিক টন গম দেশে এসে পৌঁছেছে। তৃতীয় চালানের এই গম খালাস হলে লক্ষ্যমাত্রার সিংহভাগই সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, যা জাতীয় ‘Food Security’ বা খাদ্য নিরাপত্তা বলয়কে আরও সুসংহত করবে।
মান নিয়ন্ত্রণ ও খালাস প্রক্রিয়া
জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর পরপরই নিয়মতান্ত্রিকভাবে গমের নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী ‘Quality Control’ বা গুণগত মান পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে এই নমুনা পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘Logistics’ বা লজিস্টিক সহায়তায় জাহাজ থেকে গম খালাস করে সরকারি সাইলো বা গুদামগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
আমদানিকৃত এই বিশাল পরিমাণ গম দেশের বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং সরকারি বিভিন্ন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নিরবচ্ছিন্ন ‘Supply Chain’ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।