লাহোরের ঐতিহাসিক গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে দাপুটে পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে পাকিস্তান। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করল স্বাগতিকরা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের আগে প্রতিপক্ষ দলগুলোর কাছে নিজেদের শক্তির কড়া বার্তাও দিয়ে রাখল আগা-বাবররা।
সালমান আগার বিধ্বংসী ব্যাটিং টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানি অধিনায়ক সালমান আলী আগা। যদিও শুরুতেই সাহিবজাদা ফারহান (৫) দ্রুত ফিরে যান, তবে সাইম আইয়ুবের ১১ বলে ২৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস পাকিস্তানকে গতি দেয়। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন অধিনায়ক সালমান। তিনি মাত্র ৪০ বলে ৭৬ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৮টি চার ও ৪টি ছক্কার মার। তার ১৯০ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটিই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। মধ্যভাগে উসমান খান ৩৬ বলে ৫৩ রান করে আউট হলেও পাকিস্তান ৫ উইকেটে ১৯৮ রানের বড় সংগ্রহ পায়।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয় ১৯৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই দিকভ্রান্ত ছিল অস্ট্রেলিয়া। পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন ট্রাভিস হেড ও অধিনায়ক মিচেল মার্শ। ক্যামেরন গ্রিন ২০ বলে ৩৫ রান করে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না। পাকিস্তানের বোলারদের নিখুঁত লাইনে বোলিংয়ের সামনে মাত্র ১৫.৪ ওভারে ১০৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
স্পিন জাদুতে কুপোকাত অজিরা পাকিস্তানের এই জয়ের মূল কারিগর ছিল তাদের স্পিন বিভাগ। লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ ছিলেন বিধ্বংসী; তিনি মাত্র ৩ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। অভিজ্ঞ শাদাব খানও ৩ উইকেট নেন ২৬ রানের বিনিময়ে। এছাড়া উসমান তারিক ২.৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ২ উইকেট এবং মোহাম্মদ নওয়াজ ১১ রানে ১ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন।
সিরিজ জয় ও বিশ্বকাপের বার্তা প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও এমন একপেশে জয় পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে এভাবে হারানো পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক। সিরিজের শেষ ম্যাচটি এখন নেহাতই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে।