গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাকে হামলায় শতাধিক ফিলিস্তিনির নিহত হওয়ার ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এই ঘটনায় তিনি ইসরায়েলি সেনাকে দোষারোপ করে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এক জরুরি বৈঠকে গুতেরেস এই দাবি জানান। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘের উদ্বেগ ও দাবি আন্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদকে জানান, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভোরে গাজার উত্তরাংশে ত্রাণ বিতরণের সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১০৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর আগে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছিল। গুতেরেস বলেন, এই হামলার ঘটনাটি ‘ভয়াবহ ও মর্মান্তিক’ এবং এর পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তিনি ঘটনার জন্য দায়ী ইসরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন।
হামলার প্রেক্ষাপট ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো যখন গাজার মধ্যাঞ্চলে পৌঁছায়, তখন ক্ষুধার্ত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি খাবারের জন্য ট্রাকগুলির দিকে এগিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে ইসরায়েলি সেনারা ট্রাকে থাকা বেসামরিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি ছোড়ে। এ সময় আতঙ্কিত মানুষ পদদলিত হয়েও মারা যান। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবশ্য দাবি করেছে, তারা 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে' যুক্ত সন্দেহে কিছু ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছিল।
নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিক্রিয়া জাতিসংঘের এই জরুরি বৈঠকে বেশিরভাগ সদস্য দেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তবে, গাজা যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১২টি রাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিলেও, স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র এতে ভেটো দেওয়ায় প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ২৫ লাখ মানুষ ভয়াবহ খাদ্যের অভাবে রয়েছে। ত্রাণ সহায়তা বিতরণের পথে বারবার ইসরায়েলি হামলা এবং বাধার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে গাজার উত্তরাঞ্চলে দুর্ভিক্ষ অনিবার্য। এই অঞ্চলে ত্রাণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।