বর্তমান মার্কিন কৌশল ও বিশেষজ্ঞের সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা জারি এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে ব্যবহার করে ইরানকে পুনরায় পারমাণবিক চুক্তির টেবিলে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। তবে ওয়াশিংটনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইভান সাশা শিহান এই কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, সাবেক ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু করা 'সর্বোচ্চ চাপ' (maximum pressure) নীতি ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে দুর্বল করার লক্ষ্য নিলেও, বাস্তব প্রেক্ষাপটে এর ফলে সরকার আরও সংহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, ইরান বাইরের দীর্ঘমেয়াদী চাপের মুখেও নিজেদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও বহিঃশক্তির ভূমিকা
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের মুদ্রার চরম মূল্যহ্রাসের (ধস) পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে ছয় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যদিও ইরান সরকার প্রায় তিন হাজার মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। তবে শিহানের মতে, শুধু অর্থনৈতিক সংকট বা বিক্ষোভের মাধ্যমে শাসন পরিবর্তন সম্ভব নয়, যতক্ষণ না দেশের অভ্যন্তরে সুসংগঠিত বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে উঠছে।
সামরিক হামলার ঝুঁকি ও বিকল্প পথ
শিহান বিশেষভাবে সামরিক হামলার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, ইরানের ওপর কোনো সামরিক হামলা ঘটলে, তা জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আবেগ বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে সরকার আরও সহজে বিরোধী মত দমনে সক্ষম হবে। তিনি সামরিক পথের বদলে আরও কার্যকর কৌশল গ্রহণের পক্ষে মত দেন। এই কৌশলগুলির মধ্যে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা, ধারাবাহিক কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ, আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে এবং চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে।
অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপরই ইরানের ভবিষ্যৎ
উপসংহারে শিহান জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানের ভবিষ্যৎ মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। বাইরের চাপ পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করার সহায়ক ভূমিকা নিতে পারে, কিন্তু সরাসরি কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন এনে দিতে পারবে না। দেশটির অভ্যন্তরে বিকল্প নেতৃত্বের উত্থান এবং জনগণের ঐকমত্যই চূড়ান্ত নির্ধারক হিসেবে কাজ করবে।