বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ ডা. শফিকুর রহমান তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, 'আমাদের অবস্থান ভুলভাবে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারিত হচ্ছে। আমাদের মূল্যবোধ স্পষ্ট করার জন্য এবং নীতিমালা সম্পর্কে আলোচনা পুনরায় সঠিক জায়গায় ফিরিয়ে আনতেই আমি এটি শেয়ার করছি।' তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াতের ইশতেহার শুরু থেকেই নারীদের বিষয়ে স্পষ্ট।
নারীর ভূমিকা ও অধিকার নিয়ে জামায়াতের অবস্থান জামায়াত আমির জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসন, উদ্যোক্তা ও জনসেবায় নারীদের সক্রিয় ও সম্মানজনক ভূমিকা নিশ্চিত করতে দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি মেয়েদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা, নিরাপদ ক্যাম্পাস, হয়রানির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ এবং প্রতিটি জেলায় নারীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দেন। কর্মজীবী নারীদের জন্য সমান বেতন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শিশু যত্ন সহায়তা এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলোও তাদের নীতিতে স্থান পেয়েছে।
নেতৃত্ব ও আইনি সুরক্ষায় গুরুত্ব ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, রাজনীতি ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর নেতৃত্ব, গ্রামীণ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পক্ষে জামায়াত অবস্থান নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এসব নীতি নতুন নয়; বরং কয়েক মাস আগেই প্রকাশ্যে বলা হয়েছে এবং গত ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পলিসি সামিটে আবারও তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এগুলি কোনো গুজব বা অনলাইন চাপের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক অবস্থানের প্রতিফলন।
আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি বিস্তারিত ইশতেহার প্রকাশ ডা. শফিকুর রহমান জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, 'আমার নীতি, ইশতেহার ও রাজনৈতিক রেকর্ড দিয়েই আমাকে বিচার করুন, মিথ্যা বর্ণনা দিয়ে নয়।' তিনি ঘোষণা করেন যে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ইশতেহার প্রকাশ করা হবে, যেখানে নারীদের বিষয়ে জামায়াতের সব প্রতিশ্রুতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। তিনি আরও বলেন, 'নারীর প্রতি সম্মান দেখানোই একটি অগ্রসর বাংলাদেশের পরিচয়। সেই ভবিষ্যৎ গড়তেই জামায়াত কাজ করছে।'
এক্স হ্যান্ডেলের পূর্বের পোস্ট ও দলের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গত, এর আগে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে জামায়াত আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দেখা গিয়েছিল। পরে অবশ্য পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, সাইবার হামলার মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে এবং জামায়াত আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।