মাদারীপুরের কালকিনিতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার একটি বড় পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে যৌথবাহিনী (Joint Force)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে ২৩টি তাজা ককটেলসহ হাসান আকন নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। মাদারীপুরের কালকিনি আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়।
খুনেরচরে রুদ্ধশ্বাস অভিযান ও বিস্ফোরক উদ্ধার
যৌথবাহিনী সূত্র জানায়, উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের খুনেরচর গ্রামে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত রাখা হয়েছে—এমন একটি নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এলাকাটি কর্ডন (Cordon) করে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল। তল্লাশিকালে নিজাম আকনের ছেলে হাসান আকনের হেফাজত থেকে ২৩টি শক্তিশালী ককটেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকগুলো জননিরাপত্তার জন্য এক মারাত্মক হুমকি ছিল বলে জানিয়েছেন আভিযানিক দলের সদস্যরা।
আইনি ব্যবস্থা ও পুলিশের কড়া নজরদারি
আটক হাসান আকনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে (Explosive Substances Act) একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান। এই বিপুল পরিমাণ ককটেল সরবরাহের সঙ্গে আর কারোর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।”
জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা জোরদার
এই ঘটনার পর ওই এলাকায় সাময়িকভাবে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও যৌথবাহিনীর তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বা বিশৃঙ্খলা রুখতে কালকিনির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও টহল (Patrolling) জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মাদারীপুর জেলার সীমান্ত এলাকাগুলোতে বিস্ফোরক বা অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।