ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর বন্দর আব্বাসের একটি ভবনে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত একজন নিহত এবং ১৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সংঘটিত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর এই খবর নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের প্রধান মোহাম্মদ আমিন লিয়াকাত জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে ‘Gas Leak’ বা গ্যাস লিকেজ থেকেই এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং নিশ্চিত কারণ জানতে বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। বিস্ফোরণে ভবনটি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে এবং আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
আইআরজিসি কমান্ডারকে লক্ষ্য করার দাবি ও তেহরানের অবস্থান
বিস্ফোরণের পরপরই ‘Social Media’ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক চাঞ্চল্যকর খবর ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (IRGC) নৌবাহিনীর একজন শীর্ষ কমান্ডারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আধা-সরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থা এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তাদের মতে, এটি কোনো পরিকল্পিত হামলা বা ‘Targeted Attack’ নয়, বরং একটি দুর্ঘটনা। গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করার অপচেষ্টা হিসেবে একে অভিহিত করেছে তেহরান।
আহভাজে পৃথক দুর্ঘটনা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
বন্দর আব্বাসের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ইরাক সীমান্তবর্তী ইরানের শহর আহভাজে পৃথক একটি গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তেহরান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহভাজের ওই বিস্ফোরণে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। একদিনের ব্যবধানে দুটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নীরবতা
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই বিস্ফোরণগুলোর পেছনে ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, দুইজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা এই ঘটনার সঙ্গে তাদের দেশের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও তারা ‘No Comment’ নীতি বজায় রেখে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বিস্ফোরণগুলো কেবল দুর্ঘটনা হলেও তা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও জনমানসে উদ্বেগের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।