সম্প্রতি আল জাজিরার সাক্ষাৎকারে নারী নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলে সমালোচনা শেষ হতে না হতে কর্মজীবী নারীদের অবমাননা করে দেওয়া এক্স হ্যান্ডেলের পোস্ট নিজেদের মতো করে ‘হ্যান্ডেল’ করেছে জামায়াত। তারা দাবি করে, আমিরের অ্যাকাউন্টটি হ্যাকড হয়েছিল। এবং হ্যাকড করার জন্য তারা ‘বিশেষ দল’ এর সাইবার টিমকে দায়ী করেছে। তাদের এই দাবির পরে তর্ক-বিতর্ক নতুন রূপ পায়।
গতকাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড পাতায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াত জানায়, ‘‘অত্যন্ত সমন্বিত পদ্ধতি ব্যবহার করে হামলাকারীরা সাময়িকভাবে আমিরে জামায়াতের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে দ্রুত পদক্ষেপ এবং বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের সাইবার টিম অল্প সময়ের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সক্ষম হয়। ফলে অন্যান্য অ্যাকাউন্ট এবং প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।’’ তারা পোস্টটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলার চেষ্টা করেছে।
উদ্ধারের সময়ের দাবি কি বেশিই কম?
কৌতূহলে চ্যাটজিপিটিকে উদ্ধারের সময় কত লাগতে পারে— জিজ্ঞেস কো হলে অনেকগুলো বিকল্প পাওয়া যায়।
(টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাক হলে অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে দ্রুত রিপোর্ট ও স্পষ্ট প্রমাণ দিতে পারলে ২৪-৭২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইমেইল অ্যাক্সেস থাকতে হবে, হ্যাকড অ্যাক্টিভিটি স্পষ্ট হতে হবে। তবে অ্যাকাউন্ট পুরো দখলে চলে গেলে এবং ইমেইল যদি বদলে ফেলা হয়, তবে ৩-৭ দিন, কখনও ১-২ সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। আর ভেরিফায়েড বা হাই-প্রোফাইল অ্যাকাউন্ট হলে তুলনামূলকভাবে দ্রুত রেসপন্স পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শফিকুর রহমানের অ্যাকাউন্ট ভেরিফাইড এবং এক্ষেত্রে তিনি সুযোগটি পেতে পারেন। কিন্তু সেটা কত দ্রুত? চলুন, জেনে নিই বিশেষজ্ঞরা এর বাইরে কী বলেন। সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে রিকভারি প্রক্রিয়া সাধারণত কয়েকটি টাইম স্লটে ভাগ করে এগোয় বলে সময় লাগে। এমনি সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত হলে X (এক্স) অনেক সময় অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে লক করে ভেরিফিকেশন শুরু করে। এটা খুব কম সময়ে হয়ে যাওয়া কাজ না। বরং ভেরিফাইডেই বেশি সময় লাগে।’’
সারাদিন চললো যুক্তি-পাল্টাযুক্তি
জামায়াতের ইসলামী রাতে বিবৃতি দিয়ে আবার সকালে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শনিবার বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে তারা দেখতে পান, ৪টা ৩৭ মিনিটে শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেলে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য সম্বলিত ওই বিতর্কিত লেখাটি পোস্ট করা হয়েছে। এরপর বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে ওই অ্যাকাউন্টে দলটির ‘ক্যাম্পেইন টিমের’ পক্ষ থেকে ‘ইম্পরট্যান্ট অ্যানাউন্সমেন্ট’ শিরোনামে ইংরেজিতে একটি পোস্ট করা হয়, যেখানে বলা হয়, জামায়াত আমিরের অ্যাকাউন্টটি হ্যাকড করা হয়েছে।
রবিবার নির্বাচনি প্রচারণাকালে নিজের এক্স হ্যান্ডেল হ্যাক হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আমির বলেন, ‘‘কোন জায়গা থেকে টুইটার হ্যাকড করা হয়েছে, তা ধরে ফেলেছি। হাসিনাকে পরোয়া করিনি, অন্য কোনও ফ্যাসিস্টদেরও প্রশ্রয় দেবো না।
এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে হ্যাকড হওয়া অ্যাকাউন্ট এত দ্রুত উদ্ধারের দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন— দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘‘সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন ওঠে যে, নারী বিদ্বেষী পোস্টের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর সমালোচনার মুখে, রাত ১টার দিকে আইডি হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক?’’ তিনি বলেন, ‘‘কোনও গুরুত্বপূর্ণ বা ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হলে প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো দ্রুততম সময়ে জনগণকে অবহিত করা, যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায় এবং সবাই সতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু এখানে দেখা গেলো— জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর হঠাৎ করে হ্যাকিংয়ের দাবি তোলা হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এই দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য?