কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের দিনই ভারতের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নামে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করলে একদিনেই বাজার মূলধন থেকে প্রায় ১০ লাখ কোটি রুপি (৯ লাখ ৭২ হাজার কোটি রুপি) কমে যায়।
দ্য ইকোনোমিকস টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিনের শেষে বিএসই সেনসেক্স ১ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে ৮০ হাজার ৭২২ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অন্যদিকে এনএসই নিফটি ৫০ সূচক ৪৯৫ দশমিক ২০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২৪ হাজার ৮২৫ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করেছে।
STT বৃদ্ধির ঘোষণা ও তার প্রভাব
অর্থমন্ত্রী ফিউচার্স ও অপশনস ট্রেডিং-এর ক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) বাড়ানোর ঘোষণা করেন। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ফিউচার্স ও অপশন (F&O) সেগমেন্টে অতিরিক্ত স্পেকুলেশন (speculation) কমানো এবং ছোট বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়া।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ফিউচার্সে STT শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ করা হবে। অপশন প্রিমিয়াম এবং অপশন এক্সারসাইজে STT যথাক্রমে ০ দশমিক ১০ শতাংশ ও ০ দশমিক ১২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০ দশমিক ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে ব্রোকারেজ, এক্সচেঞ্জ ও ট্রেডিং-সংশ্লিষ্ট স্টকগুলোতে তীব্র বিক্রি শুরু হয়।
সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত স্টকসমূহ
সেনসেক্সের ৩০টি স্টকের মধ্যে এসবিআই, আদানি পোর্টস, বিএইএল, আইটিসি, টাটা স্টিল, হিন্ডালকো, ওএনজিসি-সহ অনেকগুলো ৪ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এছাড়াও, অ্যাঞ্জেল ওয়ান, বিএসই, গ্রো-এর মতো ব্রোকারেজ ফার্মগুলোর শেয়ার ৮ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত পতন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য
যদিও বাজারে পতন দেখা দিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই বাজেটকে 'ঐতিহাসিক' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই বাজেট ভারতের সংস্কারের পথে নতুন গতি যোগ করেছে এবং যুবসমাজের জন্য মুক্ত আকাশ খুলে দিয়েছে। রাজস্ব ঘাটতি কমানো, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়াকে এই বাজেটের প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।