এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত মুফতি রেজাউল করীম বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশটাকে সুন্দরভাবে গড়ার একটা সুযোগ এসেছিল। এই লক্ষ্য নিয়েই যখন আমরা 'ইসলামের পক্ষে একটা বাক্স' আওয়াজ তুলেছিলাম, তখন সারা দেশের মানুষের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু মানুষ যখন পরিবর্তনের পক্ষে আওয়াজ তুলেছিল, তখন এক শ্রেণির ক্ষমতালোভী মহল ঘোষণা করল যে 'ইসলামের নীতি-আদর্শ অনুযায়ী তারা দেশ চালাবে না, দেশ চালাবে প্রচলিত আইন এবং নীতি-আদর্শের মাধ্যমে'। এই পরিস্থিতিতে ইসলামী আন্দোলন পূর্বঘোষণা অনুযায়ী 'ইসলামের পক্ষের বাক্স' ও 'ইসলামের ইজ্জতকে রক্ষার জন্য' হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এককভাবে ২৫৮ আসনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যর্থতা চরমোনাই পীর অভিযোগ করে বলেন, চুয়ান্ন বছর আগে যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে লাখো মানুষ শাহাদাত বরণ করেছেন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন – তা হলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু এই চুয়ান্ন বছরে যারা দেশ পরিচালনা করেছে, তাদের মাধ্যমে এর একটিও বাস্তবে দেখা যায়নি। তিনি আরও যোগ করেন, বরং তাদের পরিচালনার মাধ্যমে আমাদের সোনার বাংলাদেশ পাঁচবার চোর ও দুর্নীতির দিক থেকে ফার্স্ট হয়েছে।
দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সমালোচনা মুফতি রেজাউল করীম প্রশ্ন তোলেন, "হাজার হাজার মায়ের কোল খালি হয়েছে। এসব মায়েদের আর্তনাদ আর কতকাল শুনব? এদেশকে আমরা দুর্নীতিতে কতবার চ্যাম্পিয়ন করব? সন্তানগুলো পঙ্গু হবে, চক্ষু হারাবে আমাদের দেশের টাকা বিদেশে পাচার হবে, এটা আমরা কতদিন দেখব?"
ভাগ্যের পরিবর্তন ও আশাবাদ তিনি কোরআনের বাণী উল্লেখ করে বলেন, “মহান আল্লাহ বলেছেন যে জাতি নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা না করে, আমি সে জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাই না।” তিনি জনসভায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি দেখে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ইসলামের পক্ষের, মানবতার কল্যাণের পক্ষের এবং দেশকে যারা ভালোবাসে তাদের পক্ষের প্রার্থী, অর্থাৎ হাতপাখার প্রার্থী আল্লাহর রহমতে বিজয়ী হবে।