ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্যকর তথ্য
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নির্যাতনের মাধ্যমে গর্ভস্থ ভ্রূণ হত্যার অভিযোগের ঘটনায় নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযুক্ত জি এম ফাহিম আলমগীর ভুক্তভোগী নারীকে নিয়ে ২০২২ সাল থেকে যশোর শহরের একটি বাসায় স্বামী–স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতেন বলে জানা গেছে। এই তথ্য মামলা ও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনেছে।
আদালতে দায়ের করা মামলা ও অভিযোগ
ভুক্তভোগী নারী আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেন:
যৌতুকের দাবি: বিয়ের পর থেকেই স্বামী জি এম ফাহিম আলমগীর, শ্বশুর ও শাশুড়ী যৌতুক হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবিতে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
গর্ভপাত: একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে অভিযুক্তরা বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ দেয় এবং অর্থলোভে তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করাতে চেষ্টা চালায়।
নির্যাতন: ভুক্তভোগী নারী গর্ভপাত করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। এতে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি গর্ভস্থ ভ্রূণের মারাত্মক ক্ষতি হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাসের নতুন তথ্য
যশোর শহরের রামকৃষ্ণ আশ্রম রোড, শংকরপুর এলাকার ওই বাড়ির মালিক নাসরিন সুলতানা নতুন তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
স্বীকারোক্তি: তিনি জানান, ফাহিম ও ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘ সময় ধরে তার বাসায় স্বামী–স্ত্রী হিসেবে বসবাস করেছেন। তাদের আচরণ, চলাফেরা ও পরিচয়ে কখনো সন্দেহের অবকাশ ছিল না। সম্প্রতি ঘটনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তদন্ত ও শাস্তির দাবি
২৮ জানুয়ারি বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে (CID) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন করে পাওয়া এই তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলাকাবাসী ও মানবাধিকারকর্মীরা ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত জি এম ফাহিম আলমগীর-এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।