• আন্তর্জাতিক
  • মিষ্টির বাক্সে ঘাতক আর্সেনিক! পারিবারিক বিবাদের চরম প্রতিশোধ, ছিন্দওয়ারায় শ্বশুরবাড়ির বিষ-ষড়যন্ত্রে প্রাণ গেল ৩ জনের

মিষ্টির বাক্সে ঘাতক আর্সেনিক! পারিবারিক বিবাদের চরম প্রতিশোধ, ছিন্দওয়ারায় শ্বশুরবাড়ির বিষ-ষড়যন্ত্রে প্রাণ গেল ৩ জনের

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
মিষ্টির বাক্সে ঘাতক আর্সেনিক! পারিবারিক বিবাদের চরম প্রতিশোধ, ছিন্দওয়ারায় শ্বশুরবাড়ির বিষ-ষড়যন্ত্রে প্রাণ গেল ৩ জনের

বাড়ির সামনে ঝুলিয়ে রাখা ব্যাগে ছিল বিষাক্ত মিষ্টি; নিছক কৌতূহল ও লোভের বশবর্তী হয়ে সেই মিষ্টি খেয়েই মর্মান্তিক পরিণতি এক তরুণী ও তাঁর দাদাসহ তিনজনের।

একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ, ভেতরে সযত্নে রাখা কিছু টাটকা শাকসবজি আর এক বাক্স সুস্বাদু মিষ্টি। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও, এই মিষ্টির বাক্সটিই ছিল একটি সুপরিকল্পিত মরণফাঁদ। মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারা জেলায় ঘটে যাওয়া এই শিহরণ জাগানো হত্যাকাণ্ডের রহস্যভেদ করতে গিয়ে পিলে চমকানো তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ। পারিবারিক বিবাদ ও অপমানের শোধ নিতে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে পাঠানো ওই বিষাক্ত মিষ্টি খেয়ে মৃত্যু হয়েছে এক তরুণী, তাঁর বৃদ্ধ দাদা এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের এক নিরাপত্তারক্ষীর।

রহস্যের শুরু ও প্রথম দফার ট্র্যাজেডি

ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ জানুয়ারি। ছিন্দওয়ারার জুন্নারদেও এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ (PHE) অফিসের সামনে একটি অজ্ঞাত ব্যাগ ঝুলতে দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ কেউ ব্যাগটির দাবি না করায় কৌতূহলী হয়ে ওঠেন সেখানে কর্মরত ৫০ বছর বয়সী নিরাপত্তারক্ষী দাশরু যদুবংশী। ব্যাগটি খুলে তিনি ভেতরে মিষ্টির বাক্স দেখতে পান এবং সেখান থেকে মিষ্টি খান। খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তাঁর প্রবল বমি এবং ডায়রিয়া শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১১ জানুয়ারি চিকিৎসারত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ময়নাতদন্ত না হওয়ায় বিষয়টি সাধারণ অসুস্থতা বলে মনে করা হয়েছিল।

দ্বিতীয় দফার মরণফাঁদ: একটি পরিবারের সর্বনাশ

দাশরু যদুবংশীর মৃত্যুর পর ওই একই মিষ্টির বাক্সটি পাশের এক দোকানদারের পরিবার কুড়িয়ে পায়। তাঁরা ব্যাগটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেই মিষ্টি খাওয়ার পরেই ২২ বছর বয়সী খুশবু কাঠুরিয়া, তাঁর ৭২ বছর বয়সী দাদা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি; খুশবু ও তাঁর দাদা প্রাণ হারান। খুশবুর মা ও বোন দীর্ঘ চিকিৎসার পর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। তিন দিনের ব্যবধানে একই মিষ্টি খেয়ে তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং পুলিশি তদন্তে গতি আসে।

তদন্তে উঠে এল ‘আর্সেনিক’ ষড়যন্ত্র

পুলিশ যখন মিষ্টির নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠায়, তখন ফরেনসিক রিপোর্ট দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয় তদন্তকারীদের। ‘Forensic Science Laboratory’ (FSL) থেকে জানানো হয়, মিষ্টিতে মেশানো হয়েছিল উচ্চমাত্রার ‘Arsenic’ (আর্সেনিক)। মিষ্টিতে আর্সেনিকের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি ছিল, যা যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার জন্য যথেষ্ট।

পারিবারিক বিবাদ ও অপমানের ‘প্রতিশোধ’

রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে পুলিশ খুশবুর ব্যক্তিগত জীবনের দিকে নজর দেয়। জানা যায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে খুশবুর বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই তাঁর শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। এই অভিযোগে খুশবুর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা সামাজিক ও আইনিভাবে চরম অপমানিত বোধ করছিলেন।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন যে, খুশবুকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতেই এই বিষ-প্রয়োগের ছক কষা হয়। খুশবুর শ্বশুর ঝাড়ু কাসার, ভগ্নিপতি শুভম এবং শ্যালিকা শিবানী মিলে এই ষড়যন্ত্র তৈরি করেন। তাঁরা জানতেন, খুশবুর বাবার দোকানের সামনে মিষ্টির ব্যাগ রেখে এলে কোনো না কোনোভাবে তা খুশবুর কাছে পৌঁছাবেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তাঁদের সেই পাতা ফাঁদে খুশবুর আগেই প্রাণ হারান এক নিরপরাধ নিরাপত্তারক্ষী।

পুলিশি অ্যাকশন ও আইনি পদক্ষেপ

মুম্বই বা দিল্লির হাই-প্রোফাইল ক্রাইমের মতোই এই মামলার তদন্তে ‘Cyber Evidence’ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। অপরাধে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১০৩(১) ধারায় হত্যা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের (Criminal Conspiracy) অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃত পাঁচজনকেই পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও মদত ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Tags: crime news india news madhya pradesh forensic report family dispute chhindwara murder arsenic poison poison sweet bns 103 revenge killing