জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন,বিগত দিনে সব দল প্রতিযোগিতা করেছে, এক সাথে হ্যান্ডশেক, মিটিং করেছি। সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। নির্বাচনের পরিবেশ আওয়ামী লীগের আমলে কিছুটা বিঘ্নিত হলেও এখন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে রংপুর নগরীর সোনাপট্টি এলাকায় রংপুর-৩ সদর আসনের এমপি প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জিএম কাদের বলেন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক দলের হিংসাত্মক বক্তব্য ও কার্যকলাপের কারণে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। হিংসা-বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা আগে এমনভাবে লক্ষ্য করা যায়নি।শালীনতা নেই, অশালীনভাষায় কথা বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার নেই। রাজনীতিতে এখন সহনশীলতা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আমরা ধ্বংস করেছি। আমি মনেকরি এসব শেষ হবে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এ নির্বাচন অনেক কিছুর কবর রচনা করবে।
তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে এরশাদ পদত্যাগ করার পর অনেক রথি-মহারথি, আতি-পাতি সম্মিলিতভাবে কিংবা এককভাবে বলেছিল জাতীয় পার্টি ধ্বংস হয়ে গেছে, ধ্বংস করতে হবে, শেষ হবে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জেলখানা থেকে ৫টি আসনে জয়ী হয়েছিলেন। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় না গেলেও ক্ষমতার নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে, এখনও করছে। প্রতিপক্ষরা জাতীয় পার্টিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে, ষড়যন্ত্র করেছে, নির্যাতন-আক্রমণ, মামলা-মোকদ্দমা করে দলকে ভাগ করার চেষ্টা করেছে। তবে সুখের বিষয় হলো রংপুরের মানুষ প্রথমে এ দলটিকে বুকে আগলে রেখেছে। তাদের নিজস্ব দল হিসেবে তা গ্রহণ করেছে। ফলে আস্তে আস্তে আমাদের দলের পুনঃরুত্থান হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছি।
জাতীয় পার্টিকে নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ’র বক্তব্যের জবাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বিগত দিনে যারা আমাদের সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করেছে, জুলুম করেছে, আমরা দেখেছি জুলুমবাজদের আল্লাহ ছাড় দেন, কিন্তু ছেড়ে দেন না। আমাদের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের অনেকের করুন পরিণতি হয়েছে। আমি মনেকরি জুলুমবাজদের আল্লাহ হয়তো ছাড় দিচ্ছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দেবেন না। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ইয়াসির আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যরা।