• আন্তর্জাতিক
  • পুতিনের হাতে খামেনির ‘ব্যক্তিগত বার্তা’: পরমাণু জট কাটাতে রাশিয়ার দ্বারস্থ তেহরান?

পুতিনের হাতে খামেনির ‘ব্যক্তিগত বার্তা’: পরমাণু জট কাটাতে রাশিয়ার দ্বারস্থ তেহরান?

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
পুতিনের হাতে খামেনির ‘ব্যক্তিগত বার্তা’: পরমাণু জট কাটাতে রাশিয়ার দ্বারস্থ তেহরান?

ইউরেনিয়ামের মজুত রাশিয়ায় হস্তান্তরের প্রস্তাব লারিজানির; ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের আগে মস্কোর মধ্যস্থতায় বড় পদক্ষেপ নিতে চায় ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে (Geopolitics) নতুন এক সমীকরণ তৈরি করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে ‘ব্যক্তিগত বার্তা’ পাঠিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মস্কোতে খামেনির বিশেষ দূতের তৎপরতা

সম্প্রতি মস্কো সফরে যান ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি। ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি খামেনির ওই বিশেষ বার্তাটি পৌঁছে দেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই বার্তার মূল বিষয়বস্তু হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের (Enriched Uranium) মজুত রাশিয়ায় হস্তান্তরের বিষয়ে তেহরানের সম্ভাব্য আগ্রহ। এই প্রস্তাবটি মূলত ২০১৫ সালের আলোচিত পারমাণবিক চুক্তি বা ‘যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা’ (JCPOA)-এর শর্তাবলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মস্কোর মধ্যস্থতা ও ইউরেনিয়াম কূটনীতি

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা চলছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পক্ষের উদ্বেগ নিরসনে এবং পারমাণবিক উত্তেজনা কমাতে রাশিয়া মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত। ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, তারা পুরোপুরি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ না করে বরং বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি ‘আঞ্চলিক পারমাণবিক কনসোর্টিয়াম’ (Regional Nuclear Consortium) গঠন করতে চায়, যার আওতায় সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম ইরানের বাইরে পরিচালিত হবে।

ইস্তাম্বুলে মার্কিন-ইরান সম্ভাব্য বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যখন ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই নেপথ্য কূটনীতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর দাবি অনুযায়ী, পারমাণবিক অচলাবস্থা কাটাতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। সেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। মিশর, কাতার, তুরস্ক ও ওমানের মধ্যস্থতায় আগামী শুক্রবার এই বৈঠকটি আয়োজনের জোর তৎপরতা চলছে।

আরাঘচির সতর্কতা ও ট্রাস্ট ডেফিসিট

পরমাণু ইস্যুতে আলোচনার বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কিছুটা আশাবাদ ব্যক্ত করলেও ওয়াশিংটনের ওপর তীব্র আস্থাহীনতার (Trust Deficit) কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “অতীতে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছে তারা বিশ্বাসযোগ্য নয়।” তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, আলোচনা কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর (Regional Proxies) প্রতি সমর্থনের মতো বিষয়গুলো এই আলোচনার টেবিলে আসবে না।

খামেনির চরম হুঁশিয়ারি

কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন বা হঠকারিতা কেবল ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একটি ‘বৃহত্তর সংঘাত’ (Total War) উসকে দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির এই ব্যক্তিগত বার্তা এবং ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের প্রস্তাব রাশিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি শক্তিশালী সংকেত দেওয়া। ইরান বোঝাতে চাইছে যে, তারা আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান চায়, তবে তা অবশ্যই তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন ও মস্কোর এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক খেলায় ইরানের পরমাণু সংকটের কোনো টেকসই সমাধান আসে কি না।

Tags: middle east vladimir putin nuclear deal us iran russia iran iran nuclear ali khamenei enriched uranium jcpoa update diplomacy news