• আন্তর্জাতিক
  • এপস্টেইন ফাইলে নরওয়ের রাজকুমারী: নগ্ন ছবি থেকে গোপন অভিসার, চাঞ্চল্যকর তথ্যে কাঁপছে ওসলোর রাজপ্রাসাদ

এপস্টেইন ফাইলে নরওয়ের রাজকুমারী: নগ্ন ছবি থেকে গোপন অভিসার, চাঞ্চল্যকর তথ্যে কাঁপছে ওসলোর রাজপ্রাসাদ

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
এপস্টেইন ফাইলে নরওয়ের রাজকুমারী: নগ্ন ছবি থেকে গোপন অভিসার, চাঞ্চল্যকর তথ্যে কাঁপছে ওসলোর রাজপ্রাসাদ

মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত ৩০ লক্ষাধিক পৃষ্ঠার নথিতে কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের সঙ্গে মেটে-মারিটের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিস্তারিত বিবরণ; স্তম্ভিত বিশ্ববাসী।

কুখ্যাত মার্কিন যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে তৈরি হওয়া ইতিহাসের অন্যতম বড় ‘Royal Scandal’ এখন নরওয়ের রাজপরিবারের দরজায়। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত প্রায় ৩৫ লক্ষ পাতার গোপন নথিতে উঠে এসেছে নরওয়ের রাজকুমারী এবং হবু রানি মেটে-মারিটের নাম। এপস্টেইনের সঙ্গে রাজকুমারীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং আদান-প্রদান করা ‘আপত্তিকর’ বার্তার তথ্য সামনে আসতেই উত্তর ইউরোপের এই দেশটির রাজতন্ত্র এখন তীব্র অস্তিত্ব সংকটের মুখে।

ভয়াবহ নথিপত্র ও বিশ্বজুড়ে তোলপাড় গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন মামলার বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রকাশ করে, যার মধ্যে রয়েছে অন্তত ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। এই নথিতে ডনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটন, ইলন মাস্ক এবং বিল গেটসের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম থাকলেও, নরওয়ের রাজকুমারী মেটে-মারিটের বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো ফাইলে ১ হাজারেরও বেশিবার রাজকুমারীর নাম এসেছে, যা তাঁর ও এপস্টেইনের মধ্যেকার দীর্ঘমেয়াদী ও গভীর সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।

ফ্লোরিডার অভিসার ও বিতর্কিত ইমেইল তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এপস্টেইনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল মেটে-মারিটের। এমনকি ২০১৩ সালে ফ্লোরিডায় এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বাসভবনে টানা চার দিন সময় কাটিয়েছিলেন তিনি। নথিতে থাকা ইমেইল চালাচালিতে দেখা গেছে, রাজকুমারী এপস্টেইনকে ‘চার্মিং’ (Charming) এবং ‘সুইট হার্ট’ (Sweetheart) বলে সম্বোধন করতেন। পাল্টা জবাবে এপস্টেইন লিখেছিলেন, “তুমি আমাকে নেশা ধরিয়ে দাও।”

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি হলো, রাজকুমারী এপস্টেইনকে বিভিন্ন নারীর আপত্তিকর ও নগ্ন ছবি পাঠাতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি একটি ইমেইলে তিনি তাঁর তৎকালীন ১৫ বছর বয়সী ছেলের ঘরে নগ্ন নারীর ছবি রাখার বিষয়েও এপস্টেইনের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, যা চরম নৈতিক স্খলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

পারিবারিক সংকট ও রাজকুমারীর স্বীকারোক্তি এই কেলেঙ্কারি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন মেটে-মারিটের বড় ছেলে, ২৯ বছর বয়সী মারিয়াস বর্গ হোইবি ওসলোর একটি আদালতে ধর্ষণসহ ৩৮টি অপরাধের দায়ে বিচারের সম্মুখীন। ছেলের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই মায়ের এপস্টেইন-যোগ রাজপরিবারের ভাবমূর্তিকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে রাজকুমারী মেটে-মারিট একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিজের ‘দুর্বল বিচক্ষণতা’র (Poor Judgment) কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এপস্টেইনের আসল পরিচয় এবং তাঁর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত না জানার দায় সম্পূর্ণ আমার। আমি এর জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত।” তবে এই অনুতাপ নরওয়ের সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারছে না।

অ্যান্ড্রু ও বৈশ্বিক প্রভাব শুধু নরওয়ে নয়, এই নথিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নজিরবিহীন সব ছবিও প্রকাশ পেয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, চারজন নারীর ওপর হাঁটু গেড়ে বসে আছেন অ্যান্ড্রু। এই নথির সূত্র ধরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে এখন মার্কিন কংগ্রেসে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেওয়া উচিত।

বিশ্বের প্রভাবশালী মহলের এই অন্ধকার জগত উন্মোচিত হওয়ার পর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবল শুরু। এপস্টেইনের ‘Sex Trafficking’ নেটওয়ার্কের শিকড় যে কতটা গভীরে ছিল, এই ‘Documentation’ তার প্রমাণ দিচ্ছে। নরওয়ের রাজকুমারী থেকে শুরু করে ব্রিটিশ রাজপুত্র—সবাই এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইনি ও নৈতিক তদন্তের (Investigation) মুখে।

Tags: international news jeffrey epstein leaked documents mette marit norway royalty royal scandal sex trafficking us justice department prince andrew global elite