• আন্তর্জাতিক
  • আতঙ্ক কাটছে না: ২০ মিনিটের ব্যবধানে মিয়ানমারে জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল ঢাকা-চট্টগ্রাম-কলকাতা

আতঙ্ক কাটছে না: ২০ মিনিটের ব্যবধানে মিয়ানমারে জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল ঢাকা-চট্টগ্রাম-কলকাতা

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
আতঙ্ক কাটছে না: ২০ মিনিটের ব্যবধানে মিয়ানমারে জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল ঢাকা-চট্টগ্রাম-কলকাতা

রাখাইন রাজ্যে ৬.০ ও ৫.৩ মাত্রার জোড়া কম্পনের প্রভাব বাংলাদেশেও; আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন হাজারো মানুষ

একই রাতে ২০ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দু’বার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার। ভূ-কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, এর প্রভাবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতাতেও জোরালো কম্পন অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টা থেকে ১০টার মধ্যে এই জোড়া ভূমিকম্পের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) জানিয়েছে, প্রথম দফার বড় ঝাঁকুনিটি অনুভূত হয় বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে। রিখটার স্কেলে (Richter Scale) এর মাত্রা ছিল ৬.০। এর ঠিক ২০ মিনিট পর অর্থাৎ রাত ৯টা ৫১ মিনিটে দ্বিতীয় দফায় ফের ভূ-কম্পন রেকর্ড করা হয়। দ্বিতীয় দফার এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৩।

উৎপত্তিস্থল ও গভীরতা ইএমএসসির তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল (Epicenter) ছিল ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। এর ভৌগোলিক অবস্থান ছিল ২০.৫১০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৩.৯৩২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিত্তে (Sittwe) শহর থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং ইয়েনানগিয়াং শহর থেকে প্রায় ৯৮ কিলোমিটার পশ্চিমে।

সীমান্ত ছাড়িয়ে আতঙ্ক বাংলাদেশেও স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুই বার জোরালো ঝাঁকুনিতে মিয়ানমারের স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। চট্টগ্রামে কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হওয়ায় অনেকেই ভবন ছেড়ে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ঢাকাতেও বহুতল ভবনের বাসিন্দারা দুলুনি অনুভব করেন। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ক্ষয়ক্ষতির বর্তমান চিত্র এখন পর্যন্ত মিয়ানমার বা বাংলাদেশে এই ভূমিকম্পের ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে শক্তিশালী ৬.০ মাত্রার কম্পনের পর ৫.৩ মাত্রার দ্বিতীয় কম্পনটিকে বিশেষজ্ঞরা ‘আফটারশক’ (Aftershock) হিসেবে দেখছেন কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। রাখাইন রাজ্যের পাহাড়ি এলাকা এবং সিত্তে বন্দরের কাছাকাছি ভূমিকম্পের কেন্দ্র হওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রগুলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূ-পৃষ্ঠের গভীরে প্লেটের নড়াচড়ার কারণে এই জোড়া কম্পন সৃষ্টি হয়েছে। বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর না থাকলেও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এক নজরে জোড়া ভূমিকম্প:

প্রথম কম্পন: রাত ৯:৩৪ মিনিট, মাত্রা ৬.০

দ্বিতীয় কম্পন: রাত ৯:৫১ মিনিট, মাত্রা ৫.৩

উৎপত্তিস্থল: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য।

প্রভাবিত অঞ্চল: মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারত।

Tags: natural disaster dhaka earthquake richter scale rakhine state earthquake news chittagong update myanmar earthquake seismic alert emsc data earthquake today