• দেশজুড়ে
  • একই দিনে দুই দফায় কেঁপে উঠল দেশ: ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জোরালো ভূমিকম্প, নেপথ্যে মিয়ানমার

একই দিনে দুই দফায় কেঁপে উঠল দেশ: ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জোরালো ভূমিকম্প, নেপথ্যে মিয়ানমার

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
একই দিনে দুই দফায় কেঁপে উঠল দেশ: ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জোরালো ভূমিকম্প, নেপথ্যে মিয়ানমার

মঙ্গলবার ভোরে সাতক্ষীরায় মৃদু কম্পনের পর রাতে আবারও ভূকম্পনে আতঙ্কিত জনপদ; রিখটার স্কেলে রাতের কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.০

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে এক শক্তিশালী ভূকম্পনে কেঁপে উঠল রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। একদিনের ব্যবধানে দুই দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রাতের এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে।

রাত পৌনে ১০টার দিকে যখন মানুষ নিজ গন্তব্য বা বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই হঠাৎ ভবনগুলো দুলতে শুরু করে। রিখটার স্কেলে (Richter Scale) এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.০, যা মাঝারি ধরনের কম্পন হিসেবে বিবেচিত। যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দেয় এবং অনেকেই রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

মিয়ানমার সীমান্তে উৎপত্তি

ভূমিকম্পের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই কম্পনের মূল কেন্দ্র বা Epicenter ছিল মিয়ানমার অঞ্চলে। ভূ-পৃষ্ঠের গভীর থেকে উৎপন্ন এই শক্তি তরঙ্গের প্রভাবে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোসহ ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেগাসিটিতে জোরালো ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন Fault Line বা ভূ-চ্যুতি সক্রিয় থাকার কারণে এই অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে।

ভোরের মৃদু কম্পন ও সাতক্ষীরা উপকূলে আতঙ্ক

দিনের দ্বিতীয় দফার এই বড় কম্পনের আগে, মঙ্গলবার ভোরেই আরও একবার কেঁপে উঠেছিল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, ভোরবেলায় অনুভূত হওয়া সেই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.১। এটিকে ‘মৃদু’ শ্রেণির ভূমিকম্প (Mild Earthquake) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকায়। এর ভৌগোলিক অবস্থান ছিল ২২.৮৪ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯.০১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সাতক্ষীরা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর বাসিন্দারা খুব ভোরে এই ঝাঁকুনি অনুভব করেন।

বিশেজ্ঞদের সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণ

একই দিনে দুইবার ভূকম্পন অনুভূত হওয়াকে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখছেন। তারা বলছেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের আগে বা পরে এমন ছোট ছোট কম্পন বা Aftershocks হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় নগর পরিকল্পনা ও Building Code কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে ভূমিকম্পের সময় করণীয় পদক্ষগুলো (Safety Measures) অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন।

ভূমিকম্পের সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র:

প্রথম কম্পন: মঙ্গলবার ভোর (সময় নির্দিষ্ট নয়), মাত্রা ৪.১, কেন্দ্র: কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

দ্বিতীয় কম্পন: মঙ্গলবার রাত ৯:৪৫ মিনিট, মাত্রা ৫.০, কেন্দ্র: মিয়ানমার।

অনুভূত এলাকা: ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও দেশের বিভিন্ন জেলা।

Tags: bangladesh news earthquake dhaka earthquake richter scale seismic activity disaster alert chattogram tectonic plates myanmar epicenter satkhira news